সিন্ডিকেটরাজ ও পাচার রুখতে এসপিদের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর!
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর দায়িত্ব গ্রহণ করেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের আগেই রাজ্যের সমস্ত পুলিশ সুপারদের (এসপি) কাছে পৌঁছে গিয়েছে কড়া প্রশাসনিক নির্দেশিকা। দীর্ঘদিনের অভিযোগ থাকা সিন্ডিকেটরাজ এবং গরু পাচার চক্র সম্পূর্ণ নির্মূল করতে জেলায় জেলায় কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বেআইনি গরুর হাট বন্ধে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের বার্তা দিয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু সরকার। রাজ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ভূমি ও রাজস্ব সচিব এবং মুখ্যসচিবকে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, রাজ্যের জনবিন্যাসের ভারসাম্য রক্ষায় এই পদক্ষেপ অপরিহার্য। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আয়ুষ্মান ভারত, উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০ এবং বিশ্বকর্মা যোজনা চালুর ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রশাসনিক সংস্কার ও আইনি পরিবর্তন
প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় স্বচ্ছতা আনতে আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। একইসঙ্গে রাজ্যে আজ থেকেই কার্যকর করা হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা। কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে সরকারি নিয়োগের আবেদনের উর্ধ্বসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলো বজায় থাকবে, তবে কোনো ‘অভারতীয়’ বা অনুপ্রবেশকারী এই সুবিধা পাবেন না। রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন সরকার রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মূলত সিন্ডিকেট এবং পাচার রুখে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনাই এই মুহূর্তের প্রধান চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।