ইরান যুদ্ধের আবহে এবার চিনের শরণাপন্ন ট্রাম্প

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই হঠাৎ চিন সফরে রওনা হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় বসার পর এটিই ট্রাম্পের প্রথম বেজিং সফর। বুধবার সকালে হোয়াইট হাউস থেকে ‘মেরিন ওয়ান’ হেলিকপ্টারে ওঠার সময় তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। ১৫ মে পর্যন্ত চিনে অবস্থান করবেন ট্রাম্প। এই সময়ের মধ্যে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। মূলত পশ্চিম এশিয়ার অশান্ত পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই ঝটিকা সফর বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।

বৈঠকের কেন্দ্রে কি ইরান সংকট

গত মার্চ মাসে এই সফর হওয়ার কথা থাকলেও ইরান সংকটের কারণে তা পিছিয়ে গিয়েছিল। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা ইরান ইস্যুটিকে সামনে আনতে না চাইলেও, ট্রাম্পের বক্তব্যে মিলেছে ভিন্ন ইঙ্গিত। শি জিনপিংয়ের ভূমিকা সম্পর্কে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন যে, আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় চিন ভালো ভূমিকা রাখছে এবং এই বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ইস্যুতে বেজিংকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমন করতে চাইছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে এশীয় রাজনীতিতে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোই হতে পারে ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য।

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ

বিশ্বের দুই শীর্ষ অর্থনীতি ও শক্তিশালী সামরিক শক্তির অধিকারী দেশের রাষ্ট্রনেতাদের এই বৈঠক বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালের অক্টোবরে শেষবার দুই নেতার দেখা হয়েছিল ‘এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন’ শীর্ষ সম্মেলনে। এবারের বৈঠকের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। যদি চিন ও আমেরিকা ইরান ইস্যুতে একমত হতে পারে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যথায়, এই সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কোনো মেরুকরণ তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। চিনের পক্ষ থেকে যুদ্ধের অবসানে কোনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি আসে কি না, তা আগামী দু-তিন দিনের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *