যুদ্ধবিরতির পরেও রক্তক্ষয়ী গাজা, ইজরায়েলি বিমান হামলায় খতম হামাস সেনাপ্রধান হাদ্দাদ
আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও শান্ত হয়নি গাজা ভূখণ্ড। হামাস দমনে সেখানে লাগাতার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েলি বাহিনী। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই এবার গাজা সিটিতে ইজরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত হলেন হামাসের শীর্ষ সেনাপ্রধান ইজ আল দিন আল হাদ্দাদ। গত শুক্রবার গাজা সিটির একটি অ্যাপার্টমেন্ট লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (IDF) এবং হামাস—উভয় পক্ষই এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেনাপ্রধান হাদ্দাদ গাজা সিটির একটি বহুতলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। শুক্রবার সেখানে আচমকা বিমান হামলা চালায় ইজরায়েল, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর গাজাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রিয় নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে গাজার সাধারণ মানুষ। হাদ্দাদের শেষকৃত্যে হাজার হাজার নাগরিকের ঢল নামে, যেখানে বিপুল সংখ্যক শিশুকেও শামিল হতে দেখা গেছে।
হিট লিস্টে থাকা নেতার অবসান
ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্সের দাবি, নিহত ইজ আল দিন আল হাদ্দাদ দীর্ঘদিন ধরে তাদের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় ছিলেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের মাটিতে হামাস যে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল, হাদ্দাদ ছিলেন সেই অভিযানের অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী। এছাড়া, যুদ্ধ চলাকালীন বিপুল সংখ্যক ইজরায়েলি পণবন্দীকে নিজের হেফাজতে রেখেছিলেন তিনি। ইজরায়েলি সেনার অভিযোগ, নিজের প্রাণ বাঁচাতে হাদ্দাদ দীর্ঘদিন ধরে এই পণবন্দীদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন।
যুদ্ধবিরতির পরেও অব্যাহত রক্তক্ষয়
গত বছরের ১১ অক্টোবর ইজরায়েল ও হামাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন হলেও গাজায় সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। হামাসের অবশিষ্ট নেতৃত্ব ও যোদ্ধাদের নির্মূল করতে ইজরায়েলি সেনা তাদের বিশেষ অভিযান জারি রেখেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইজরায়েলি হামলায় গাজায় ৮৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ। এই শীর্ষ সেনাপ্রধানের মৃত্যুর ফলে গাজায় নতুন করে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধ আন্দোলন আরও উগ্র রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।