চীন থেকে ফিরেই ইরানকে প্রচ্ছন্ন হুমকি ট্রাম্পের, সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ঝড়ের আগের নীরবতা’র বার্তা

চীন সফর শেষ করে দেশে ফিরেই ইরানকে কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে আমেরিকার পরমাণু ও কূটনৈতিক সমঝোতা নিয়ে তৈরি হওয়া চরম অনিশ্চয়তার মাঝেই এই হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। একটি ফরাসি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতার বিষয়টি এখনও তাঁর কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে ইরান যদি সমঝোতায় রাজি না হয়, তাহলে তাদের চরম বিপদের মুখে পড়তে হবে। তেহরানকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, সমঝোতা না করলে ওদের খুব খারাপ সময় দেখতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের ইঙ্গিত

সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) নির্মিত ছবি পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। সেই ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘কাম বিফোর স্টর্ম’ বা ঝড়ের আগের নীরবতা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লেখা টুপি মাথায় দিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর এক অ্যাডমিরালের সঙ্গে একটি যুদ্ধজাহাজে দাঁড়িয়ে আছেন ট্রাম্প। চারপাশের উত্তাল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার এক প্রতীকী রূপ ফুটে উঠেছে সেই ছবিতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পোস্টের মাধ্যমে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কোনও বড়সড় সামরিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

চীন সফরে অধরা চুক্তি ও কঠোর মার্কিন অবস্থান

ইরানকে এই কড়া বার্তা দেওয়ার ঠিক আগেই বেইজিংয়ে দুই দিনের হাই-প্রোফাইল সফর শেষ করেছেন ট্রাম্প। বাণিজ্য এবং বিরল খনিজ সম্পদ (রেয়ার আর্থ) নিয়ে বড় ধরনের চুক্তির প্রত্যাশা থাকলেও, সোয়াবিন এবং বোয়িং বিমান সংক্রান্ত কিছু চুক্তি ছাড়া বিশেষ কোনও অগ্রগতি হয়নি এই সফরে। তবে চীন সফর শেষে মার্কিন প্রতিনিধিদলের বেনজির ও কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেইজিং সফর শেষে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা চীন থেকে পাওয়া সমস্ত উপহারসামগ্রী, ল্যাপেল ব্যাজ, এমনকি সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রও বেইজিংয়ে ফেলে এসেছেন। সফরে ব্যবহৃত সাময়িক ‘বার্নার ফোন’ এবং ল্যাপটপও নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা বিভাগ এবং ‘সিক্রেট সার্ভিস’-এর অকাট্য নির্দেশ ছিল, চীন দেশে তৈরি কোনও সামগ্রী ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ বিমানে তোলা যাবে না। মার্কিন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বিমানে ওঠার ঠিক আগে সিঁড়ির নীচে রাখা আবর্জনার ঝুড়িতে সমস্ত চীনা সামগ্রী ও স্মারক ফেলে দেন। চীন ও ইরানের সঙ্গে আমেরিকার এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত আগামী দিনে বৈশ্বিক রাজনীতি ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *