ভিনদেশে শিখদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব! মোর্স শহরের গুরুদ্বারে হাতাহাতি-মারপিট, বিশেষ পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার ১

জার্মানির মোর্স শহরের ডুইসবার্গ এলাকার একটি গুরুদ্বারে শিখদের দুটি পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবারের এই সহিংসতায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ধর্মীয় উপাসনালয়ের ভেতরেই দুই পক্ষ হাতাহাতি এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বিশাল অভিযান চালাতে হয় এবং বিশেষ কৌশলগত ইউনিট মোতায়েন করা হয়।

বিরোধের মূলে ক্ষমতা ও তহবিল

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, গুরুদ্বারের নতুন পরিচালনা পর্ষদ বা ‘বোর্ড অফ ডিরেক্টর্স’ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এই বিবাদের সূত্রপাত। বর্তমান ও প্রাক্তন সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার এবং গুরুদ্বারের তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতভেদ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগেই এক পক্ষ হঠাৎ অন্য পক্ষের ওপর পেপার স্প্রে ছিটানো শুরু করে, যা মুহূর্তের মধ্যে সংঘাতকে চরম রূপ দেয়।

আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার

সংঘর্ষ চলাকালীন ছুরি, কৃপাণ এবং পেপার স্প্রে ব্যবহারের পাশাপাশি বন্দুক থেকে গুলি ছোড়ারও অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময় আতঙ্কিত মানুষ প্রাণভয়ে এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তলের ফাঁকা খোসা উদ্ধার করেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে সেটি একটি ‘ব্ল্যাঙ্ক-ফায়ারিং’ পিস্তল ছিল। এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে।

এক ঝলকে

  • জার্মানির মোর্স শহরে পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন ও তহবিল নিয়ে শিখদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
  • হামলায় ছুরি, কৃপাণ ও পেপার স্প্রে ব্যবহারের ফলে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।
  • পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জার্মানি পুলিশ বিশেষ ইউনিট মোতায়েন করেছে এবং একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
  • বিরোধের প্রধান কারণ হিসেবে ধর্মীয় উপাসনালয়ের ক্ষমতা দখল ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি উঠে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *