জন্মদাত্রী মায়ের পৈশাচিক লালসা, ১৪ বছরের কিশোর সন্তানের জীবন তছনছ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে জন্মদাত্রী মায়ের লালসার শিকার হয়েছে তার নিজেরই ১৪ বছর বয়সী কিশোর সন্তান। ২০০৯ সালে প্রকাশ্যে আসা এই ঘটনায় অ্যামি লুইস সোর্ড নামক এক নারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নিজের সন্তানকে অন্য পরিবারে দত্তক দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সাথে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করেন অ্যামি। এরপর এক হোটেলে সাক্ষাতের বাহানায় তিনি কিশোর সন্তানের ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালান।

বিকৃত লালসা ও আইনি ব্যবস্থা

তদন্তে জানা যায়, ২০০৮ সাল থেকে গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস এবং ওয়াটারফোর্ড টাউনশিপের বিভিন্ন স্থানে ওই কিশোরকে যৌন হেনস্তা করেন তার মা। কিশোরটি তার স্কুলের কাউন্সিলরের কাছে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পুলিশি জেরায় ভুক্তভোগী কিশোর জানায়, হোটেলের পাশাপাশি আত্মীয়র বাড়িতেও তাকে বারবার লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। এই ঘটনায় অ্যামির বিরুদ্ধে তিনটি গুরুতর যৌন অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়।

মানসিক প্রভাব ও বিচার

আদালতে বিচার চলাকালীন অভিযুক্ত নারী নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন। বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে বিরল এবং চরম বিকৃত মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজ মায়ের কাছ থেকে পাওয়া এমন আঘাত ওই কিশোরের মনে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অ্যামি লুইসকে ৯ থেকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। রায় ঘোষণার পর তিনি নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইলেও তার এই জঘন্য অপরাধ পুরো সমাজকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • মিশিগানে নিজের ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে যৌন নির্যাতনের দায়ে মা অ্যামি লুইস গ্রেপ্তার।
  • ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করে হোটেলে সাক্ষাতের সময় একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ।
  • স্কুল কাউন্সিলরের কাছে কিশোরের জবানবন্দির মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা প্রকাশ পায়।
  • অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত অভিযুক্ত নারীকে ৩০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *