ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয় অধরা কেন? ট্রাম্পের কৌশল কি তবে ব্যর্থ!
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবি: ইরান যুদ্ধের দায় নিয়ে ট্রাম্প-ভান্স দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত রিপাবলিকান শিবির
ওয়াশিংটন: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির হতাশাজনক ফলের জেরে দলের অভ্যন্তরেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। হারের দায় সরাসরি ইরান যুদ্ধের ওপর চাপিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ও ভান্সের মধ্যে দূরত্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে, যা নিয়ে সরগরম মার্কিন রাজনীতি।
ভোটের ফল প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ভান্স দাবি করেন, ইরান যুদ্ধের কারণেই ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে দল। অথচ এতদিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতিটি সিদ্ধান্তের নিঃশর্ত সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন ভান্স। তবে মিড-টার্ম নির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর তাঁর এই অবস্থান পরিবর্তন দলের ভেতর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৮ সালে ট্রাম্পের উত্তরাধিকারী হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করা ভান্সের ভবিষ্যৎ এখন নিজেই অনিশ্চয়তার মুখে।
এদিকে, ভান্সের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ কৌশলী। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিনিধিকে ট্রাম্প জানান, তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। পরবর্তী সময়ে বিদেশ সফরের আগে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প সরাসরি ভান্সকে আক্রমণ না করলেও তাঁর অভিযোগ খারিজ করে দেন। ট্রাম্পের স্পষ্ট বক্তব্য, “ইরান যুদ্ধ জরুরি ছিল, তাই আমেরিকা তাতে অংশ নিয়েছে। প্রয়োজনে আবারও যুদ্ধে নামবে।”
পরিস্থিতি কেবল ট্রাম্প-ভান্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দলের অন্তত ৮ থেকে ১০ জন শীর্ষ নেতা সরাসরি ইরান যুদ্ধের ব্যর্থতাকে হারের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে ট্রাম্পের ওপর দায় চাপিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, কেবল যুদ্ধই হারের একমাত্র কারণ নয়; বরং আট মাস ধরে চলা এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জয়লাভ করতে না পারাই ভোটারদের বড় অংশের ক্ষোভের কারণ। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর ইরান যুদ্ধই আমেরিকার সামনে সবচেয়ে বড় সামরিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের ‘গড়’ বা শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতেও ভোটের ফল বিপর্যয়জনক হওয়ায় দলের ভেতর সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতাদের এমন অবস্থান ট্রাম্পের নেতৃত্বের ওপর বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।