পেট্রোল-ডিজেলের দামে ফের আগুন? মন্ত্রীর এক মন্তব্যেই বাড়ল জল্পনা!
জ্বালানির দাম কি বাড়তে চলেছে? মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্ন এখন কোটি কোটি ভারতবাসীর মনে। সম্প্রতি পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী পেট্রোল ও ডিজেলের দাম নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি করেছে। তবে একই সঙ্গে তিনি দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:
মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রীর ইঙ্গিত
একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হরদীপ সিং পুরী জানান, গত চার বছর ধরে দেশে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকলেও ভবিষ্যতে দাম বাড়বে না—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, “আমি বলছি না যে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়বে না। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ভবিষ্যতে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।” মন্ত্রীর এই মন্তব্যকে অদূর ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম বাড়ার একটি প্রচ্ছন্ন সঙ্কেত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানির মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি
মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা থাকলেও ভারতে তেল বা গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে:
- তেল ও এলএনজি মজুত: ভারতে বর্তমানে ৬০ দিনের অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজি (LNG) মজুত রয়েছে।
- এলপিজি মজুত: রান্নার গ্যাস বা এলপিজি ৪৫ দিনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত আছে।
- উৎপাদন বৃদ্ধি: এলপিজি উৎপাদন দৈনিক ৩৫-৩৬ হাজার টন থেকে বাড়িয়ে ৫৪ হাজার টন করা হয়েছে।
তেল সংস্থাগুলোর লোকসান ও ১৫ মে-র জল্পনা
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো (OMCs) পুরনো দামে তেল বিক্রি করায় প্রতি মাসে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। এই বিশাল আর্থিক ঘাটতি সামাল দিতে ১৫ মে-র আগেই লিটার প্রতি তেলের দাম বাড়তে পারে বলে সূত্রের খবর। যদিও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন যে, জ্বালানির দাম পরিবর্তনের সাথে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রধানমন্ত্রীর সতর্কতা
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও নাগরিকদের সতর্কতার সাথে জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
উপসংহার
আপাতত সরবরাহে কোনো সমস্যা না থাকলেও, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং তেল সংস্থাগুলোর ক্রমবর্ধমান লোকসান ভারতের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। সরকারের পক্ষ থেকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা চললেও, ১৫ মে পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।