ক্যানসারকে হারিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে বাজিমাত, ৮২টি কেমোর লড়াই শেষে সাফল্যের শিখরে অদ্রিজা

ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় শরীরে বাসা বেঁধেছিল মারণরোগ ক্যানসার। দীর্ঘ চার বছর ধরে চলেছে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়া। একে একে ৮২টি কেমোথেরাপির অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করেও হার মানেননি উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার অদম্য মেধাবী ছাত্রী অদ্রিজা গণ। জীবনের কঠিনতম যুদ্ধে জয়ী হয়ে এবার উচ্চ মাধ্যমিকের মেধাতালিকায় দশম স্থান দখল করে নজির গড়লেন তিনি। রামকৃষ্ণ সারদা মিশন সিস্টার নিবেদিতা গার্লস স্কুলের এই পড়ুয়ার প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৭।

অদম্য লড়াই ও পরিবারের ভূমিকা

অদ্রিজার এই সাফল্যের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না। ষষ্ঠ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার পরেই ধরা পড়েছিল ‘টি-সেল লিম্ফোমা’। পরিবারের ওপর নেমে আসে পাহাড়প্রমাণ বিপদ। সেই সময় একদিকে অদ্রিজার চিকিৎসা এবং অন্যদিকে অসুস্থ হয়ে পড়া ঠাকুমার সেবা— সব মিলিয়ে দিশেহারা অবস্থা ছিল বাবা জয়মঙ্গল গণের। এই কঠিন পরিস্থিতিতে পরিবারের হাল ধরেন মা জ্যোতি গণ। পেশায় শিক্ষিকা জ্যোতিদেবী একাই মেয়েকে মুম্বই নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০২১ সালে ক্যানসার মুক্ত হন অদ্রিজা। মেয়ের এই সাফল্যে এখন খুশির হাওয়া সারা পরিবারে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বপ্নের উড়ান

শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি মানসিক যুদ্ধের গুরুত্ব খুব কাছ থেকে অনুভব করেছেন অদ্রিজা। তাই ভবিষ্যতে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বা মনোবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করতে চান তিনি। লক্ষ্য বেথুন কলেজে স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়া এবং প্রয়োজনে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়া। মানুষের আচরণ ও মানসিক বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করে আগামীতে অন্য রোগীদের পাশে দাঁড়াতে চান এই কৃতী। অসুস্থতার সময়ে স্কুলের মাতাজি ও শিক্ষিকাদের নিরন্তর সহযোগিতা এবং নিজের প্রবল ইচ্ছাশক্তিই আজ তাকে সাফল্যের এই চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি জানিয়েছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতি মানুষকে আরও শক্তিশালী করে তোলে, যার প্রমাণ তার এই ফলাফল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *