পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় হঠাৎ আরএসএসের সুর বদল! ইসলামাবাদের সমর্থনে নতুন বিতর্ক
দীর্ঘদিন ধরে চলা ভারত ও পাকিস্তানের শীতল সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করার ইঙ্গিত মিলেছে। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) মহাসচিব দত্তাত্রেয় হোসালের এক মন্তব্যকে ঘিরে দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রাখা উচিত বলে আরএসএস নেতার দেওয়া প্রস্তাবকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য গঠনমূলক কূটনীতিই একমাত্র পথ।
আরএসএস নেতার মন্তব্য ও কৌশলগত অবস্থান
একটি সাক্ষাৎকারে আরএসএস মহাসচিব দত্তাত্রেয় হোসাবেলে জানান, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভারত যেমন কঠোর অবস্থান নেবে, ঠিক তেমনই আলোচনার পথও সম্পূর্ণ রুদ্ধ করা ঠিক হবে না। পুলওয়ামার মতো ঘটনার কঠোর জবাব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেও তিনি মনে করেন, আলোচনার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকা উচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদি সরকারের দীর্ঘদিনের ‘সন্ত্রাস ও আলোচনা একসাথে নয়’ নীতির থেকে আরএসএস মহাসচিবের এই অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরবর্তী সময়ে যখন নয়াদিল্লি আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করেছে, তখন আরএসএসের এই সুর বদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কূটনৈতিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়ার ঝড়
হোসাবলের এই মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তান তার শান্তি বজায় রাখার সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে দেশের অভ্যন্তরে বিরোধীরা এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে একে সরকারের পুরনো অবস্থানের পরিপন্থী বলে দাবি করেছে। উল্লেখ্য, বিগত বছরে একাধিক জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত সীমান্ত সংলগ্ন পাক ঘাঁটিগুলোতে বড়সড় অভিযান চালিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বারবার স্পষ্ট করেছেন যে, পাকিস্তান যতক্ষণ সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না করছে ততক্ষণ কোনো দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে আরএসএস এবং পাকিস্তানের মধ্যেকার এই পরোক্ষ মতৈক্য ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে স্থগিত থাকা সচিব পর্যায়ের বৈঠক বা কূটনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।