ভবিষ্যৎ আর্থিক সংকট রুখতে মোদীর মাস্টারপ্ল্যান, ২১ মে জরুরি ক্যাবিনেট বৈঠক
পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারের টালমাটাল পরিস্থিতির আঁচ থেকে ভারতীয় অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে কোমর বেঁধে নামছে কেন্দ্র। আগামী ২১ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক উচ্চপর্যায়ের ক্যাবিনেট বৈঠক ডেকেছেন। এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো সরকারের রাজস্বের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং আসন্ন সম্ভাব্য আর্থিক সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তৈরি করা। অর্থ, কৃষি, রেল, সড়ক পরিবহণ ও জ্বালানিসহ প্রায় ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের মন্ত্রীদের এই বিশেষ আলোচনা সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যয় সংকোচন ও প্রশাসনিক সংস্কারের ওপর জোর
সরকারি সূত্রের খবর, বৈঠকে প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে যাচ্ছে সরকারি ব্যয় হ্রাস এবং আয়ের নতুন উৎস সন্ধান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’ বা ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ২১ মে-র বৈঠকে লাল ফিতের ফাঁস কতটা আলগা হয়েছে এবং প্রশাসনিক সংস্কারের গতি কতখানি, তার বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলোকে তাদের কাজের অগ্রগতি নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (পিএমও)।
জ্বালানি সাশ্রয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব
ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার ফলে পশ্চিম এশিয়ায় যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি তেলের বাজারে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ইতিমধ্যেই নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেশবাসীকে সাশ্রয়ের বার্তা দিয়েছেন। মোদীর এই উদ্যোগকে অনুসরণ করে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে ওয়ার্ক ফ্রম হোম এবং বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞার মতো একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। মূলত সরকারি স্তরে মিতব্যয়িতা নিশ্চিত করাই এখন কেন্দ্রের প্রধান লক্ষ্য।