নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ, মোদী সরকারের তৈরি বাছাই কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন বাছাই কমিটিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে (সিজেআই) রাখা হবে না, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল শীর্ষ আদালত। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে স্পষ্ট জানতে চায়, সিবিআই ডিরেক্টর বাছাইয়ের প্যানেলে প্রধান বিচারপতি থাকতে পারলে গণতন্ত্র রক্ষার স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত নির্বাচন কমিশন গঠনে কেন তাঁর উপস্থিতি রাখা হয়নি। আদালত মনে করছে, বর্তমান কাঠামোয় নিয়োগ প্রক্রিয়াটি কার্যত নির্বাহী বিভাগ বা সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে।
গণতন্ত্র ও নিরপেক্ষতা নিয়ে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ
মামলার শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত উল্লেখ করেন যে, বর্তমান আইন অনুযায়ী বাছাই কমিটিতে প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিসভার একজন সদস্যের আধিক্য থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের একচেটিয়া প্রভাব বা ‘ভেটো’ দেওয়ার ক্ষমতা থেকে যাচ্ছে। আদালত প্রশ্ন তোলে, প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতার মধ্যে যদি কোনও নাম নিয়ে মতবিরোধ হয়, তবে তৃতীয় সদস্য হিসেবে ক্যাবিনেট মন্ত্রী কি কখনও সরকারের ইচ্ছার বাইরে যেতে পারবেন? এই ২:১ অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। বিচারপতিদের মতে, গণতন্ত্র এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য এই প্যানেলে একজন স্বাধীন বা নিরপেক্ষ প্রতিনিধির থাকা অত্যন্ত জরুরি।
আইনের ব্যাখ্যা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি যুক্তি দেন যে, নিয়োগের ক্ষেত্রে সবসময় মতবিরোধ হবে এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তবে আদালত এই যুক্তি খণ্ডন করে জানায় যে, সংসদ আইন প্রণয়ন করতে পারে ঠিকই, কিন্তু সেই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা এবং ব্যাখ্যার চূড়ান্ত ক্ষমতা আদালতের হাতেই ন্যস্ত। আইনজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর অবস্থানের ফলে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত বর্তমান আইনে বড়সড় বদল আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিচার বিভাগের কোনও প্রতিনিধি না থাকলে কমিশনের স্বায়ত্তশাসন খর্ব হতে পারে এবং ভবিষ্যতে এর ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমানসে সংশয় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।