মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামার মাঝে মোদীর সঙ্গে ইরান ও রুশ বিদেশমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চরম উত্তেজনার আবহে ভারতে শুরু হয়েছে ব্রিকস গোষ্ঠীভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর দুই দিনব্যাপী বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি এবং রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে ব্রিকস দেশগুলোর সংহতি এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তেহরান ও মস্কোর অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে ইরানের কঠোর বার্তা
নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এই সম্মেলনে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসন’ ও ‘গুন্ডামি’র বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি ব্রিকস সদস্য দেশগুলোকে একজোট হয়ে ওয়াশিংটনের অন্যায় পদক্ষেপগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। আরাঘচির মতে, মার্কিন জবরদস্তি মোকাবিলা করার এটাই উপযুক্ত সময় এবং এই ধরণের কর্মকাণ্ড ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার যোগ্য। তেহরান মূলত ব্রিকসের মতো শক্তিশালী মঞ্চকে ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পশ্চিমী আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও অমীমাংসিত কূটনীতি
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ৬০ শতাংশ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সিদ্ধান্ত। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-মার্কিন আলোচনার সূত্রপাত হলেও ওয়াশিংটনের প্রধান শর্ত ছিল এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তাদের হাতে তুলে দেওয়া। ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার পরিবর্তে শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষবিরতির স্থায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু কূটনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ব্রিকসের ভূমিকা ও প্রভাব
ভারত এই বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব করায় দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নয়া দিল্লির মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা আরও জোরালো হয়েছে। রাশিয়া, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর উপস্থিতি এই জোটকে পশ্চিমা বলয়ের বাইরে এক শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করছে। একদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা—এই দুই সংকটের মাঝে ব্রিকস দেশগুলোর এই সমীকরণ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ভারতের সঙ্গে তেহরানের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।