রক্তাক্ত পাকিস্তান, বাজাউরে আত্মঘাতী হামলায় প্রাণ হারালেন ১৫ সেনা জওয়ান!
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজাউরে এক ভয়াবহ ও সুপরিকল্পিত আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদীরা প্রথমে সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় সেনা ছাউনি কেঁপে ওঠার পরপরই সশস্ত্র জঙ্গিরা ক্যাম্পে প্রবেশ করে এবং এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। আচমকা এই হামলায় সেনা ছাউনিটি মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইতিমধ্যেই এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের বিশেষ শাখা ‘স্পেশাল ইশতিহাদি ফোর্সেস’ (এসআইএফ) এই আত্মঘাতী অভিযানটি পরিচালনা করেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে কোয়েটায় হামলার পর এই প্রথম টিটিপি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বড়সড় আত্মঘাতী হামলার দায় নিল।
আঞ্চলিক অস্থিরতা ও হামলার কারণ
আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজাউর অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই চরমপন্থী ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে পরিচিত। গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখা এবং পাকিস্তান সরকারের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতেই টিটিপি এই সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করেছে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবেই সরাসরি সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ১ সপ্তাহের ব্যবধানে ওই প্রদেশে এটি দ্বিতীয় বড় আত্মঘাতী হামলা। এর মাত্র কয়েকদিন আগে লাক্কি মারওয়াত জেলার নৌরং বাজারে বিস্ফোরক ভর্তি অটো নিয়ে চালানো আত্মঘাতী হামলায় পুলিশসহ একাধিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন। এমনকি গত ফেব্রুয়ারি মাসেও এই প্রদেশে একই ধরনের হামলায় ৫ পুলিশ সদস্য নিহত হন।
সম্ভাব্য প্রভাব ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
এই রক্তক্ষয়ী হামলার পর সামগ্রিকভাবে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সীমান্তের ভেতরে একের পর এক সেনা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা দেশটির অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয়কে স্পষ্ট করে তুলছে। ঘটনার পরপরই বাজাউরসহ পুরো খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে। এই ধরনের ধারাবাহিক হামলা পাকিস্তানের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকেও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই হামলার জেরে সীমান্ত অঞ্চলে উগ্রপন্থী দমনে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আগামী দিনগুলোতে আরও বড় ধরনের সামরিক অভিযানে নামতে পারে, যার ফলে ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা ও তীব্র সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।