১১ কোটির আয়ে ৬০ কোটির বিদেশ সফর, রাহুলের খরচ নিয়ে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিদেশ সফর ও তার ব্যয়ভার নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। গত ২২ বছরে রাহুল গান্ধীর ৫৪ বার বিদেশ সফর এবং তাতে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ তুলে বিজেপি আক্রমণ শানানোর পর থেকেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে বাগযুদ্ধ চরমে পৌঁছেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে।
বিজেপির বিস্ফোরক অভিযোগ ও অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র রাহুল গান্ধীর আয় ও ব্যয়ের খতিয়ান তুলে ধরে দাবি করেছেন, বিগত ২২ বছরে ৫৪ বার বিদেশ সফরে প্রায় ৬০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। অথচ হলফনামা অনুযায়ী এই সময়ে তাঁর আয় মাত্র ১১ কোটি টাকা। এই বিপুল অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ কোথা থেকে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ক্ষমতাসীন দল। বিজেপির পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, এই সফরের পেছনে কোনো বিদেশি লবি, কর্পোরেট গোষ্ঠী বা রহস্যময় অর্থস্রোত কাজ করে থাকতে পারে, যা বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (FCRA) লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। এছাড়া, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাহুলের বারবার বিদেশে চলে যাওয়াকে তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্বহীনতা ও দায়বদ্ধতার অভাব হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে বিজেপি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর কমানোর পরামর্শের বিপরীতে রাহুলের সমালোচনার জবাব দিতেই শাসক দল এই পাল্টা আক্রমণের কৌশল নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কংগ্রেসের পাল্টা কৌশল ও নজর ঘোরানোর তত্ত্ব
বিজেপির এই আক্রমণের তীব্র বিরোধিতা করে একে মূল সমস্যা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছে কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির মতো জ্বলন্ত সমস্যাগুলো থেকে সাধারণ মানুষের মনকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করতেই রাহুলের ব্যক্তিগত সফরকে বড় ইস্যু করা হচ্ছে। কংগ্রেস পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে, যদি বিদেশ সফর নিয়েই হিসাব চাইতে হয়, তবে প্রধানমন্ত্রীর বিগত বছরগুলোর সমস্ত বিদেশ সফরের বিস্তারিত খরচও প্রকাশ করা হোক। কংগ্রেসের মতে, শাসক দল নিজেদের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ঢাকতেই এই ধরণের ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ির পথ বেছে নিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিণতি
এই বিতর্কের ফলে আগামী দিনে ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। বিরোধী দলনেতার বিদেশ সফরের খরচ নিয়ে বিজেপির এই আক্রমণ যেমন রাহুলের ভাবমূর্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নের মুখে ফেলার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা, তেমনই কংগ্রেসের পাল্টা আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর দিকেও আঙুল তোলার সুযোগ করে দিচ্ছে। ফলে মূল অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুগুলো আড়ালে চলে গিয়ে আগামী দিনগুলোতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই ব্যক্তিগত আক্রমণ ও রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।