উন্নাও ধর্ষণকাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে বিরাট ধাক্কা খেলেন প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সেঙ্গার!
উন্নাও ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেলেন। তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ওপর দিল্লি হাই কোর্টের দেওয়া শর্তসাপেক্ষ স্থগিতাদেশ শুক্রবার খারিজ করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি নতুন করে শুনানির জন্য পুনরায় দিল্লি হাই কোর্টে ফেরত পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে সেঙ্গারের আপিল শুনানি শেষ করতে হবে, অন্যথায় সাজা স্থগিতের আবেদন নিয়ে হাইকোর্টকে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আইনি টানাপোড়েন ও সিবিআইয়ের অবস্থান
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে দিল্লি হাই কোর্ট কুলদীপ সেঙ্গারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশ দিলে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও শোরগোল তৈরি হয়। হাই কোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই যুক্তি দেয়, একজন বিধায়ক সমাজের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার একটি অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। অন্যদিকে, সেঙ্গারের আইনজীবী নির্যাতিতা নাবালিকা ছিলেন না বলে দাবি করলেও সিবিআই তা দৃঢ়ভাবে খারিজ করে দেয়। হাই কোর্টের পূর্ববর্তী পর্যবেক্ষণ ছিল যে বিধায়ককে সরকারি কর্মী হিসেবে গণ্য করা যায় না, তাই কঠোর ধারা প্রয়োগ সম্ভব নয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের এই যুক্তিকে একেবারেই সমর্থন করেনি।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
২০১৯ সালে উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত কুলদীপ সেঙ্গারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছিল। এই মামলায় নির্যাতিতার পরিবারের ওপর লাগাতার হেনস্থা ও চাপ সৃষ্টির অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিবিআই একাধিক অনুষঙ্গিক ঘটনার তদন্তে নামে। ২০২০ সালে নির্যাতিতার বাবার মৃত্যুর ঘটনায় অপর একটি মামলায় সেঙ্গারকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং চলতি বছরের শুরুতে সেই সাজা স্থগিতের আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে প্রভাবশালী অপরাধীদের ক্ষেত্রে আইনি নমনীয়তা পাওয়ার পথ বন্ধ হলো এবং একই সাথে বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হলো বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।