মাদকমুক্ত তামিলনাড়ুর লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়! ২১ বছরের নিচে মদ বিক্রি নিষিদ্ধ
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে জোরকদমে কাজ শুরু করে দিয়েছেন চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়। রাজ্যের তরুণ প্রজন্মকে নেশার অন্ধকার থেকে দূরে রাখতে এবং একটি মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নতুন প্রশাসন। তারই ধারাবাহিকতায় এবার রাজ্যজুড়ে ২১ বছরের কমবয়সিদের কাছে মদ বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিজয়ের নতুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকার পরিচালিত ‘তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং করপোরেশন’-এর জন্য একটি কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২১ বছরের নিচে মদ্যপানকে সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে মদের দোকানে ক্রেতাদের বয়স এবং পরিচয় নিশ্চিত করতে পরিচয়পত্র যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া মদ্যপানের প্রবণতা আরও কমিয়ে আনতে মদের দোকান খোলার সময়সীমা বর্তমানের তুলনায় ২ ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার।
কঠোর অবস্থানে প্রশাসন
এর আগে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই আরেকটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। তিনি নির্দেশ দেন, সমস্ত উপাসনাস্থল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বাস স্টপের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা সব সরকারি মদের দোকান আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনের এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যজুড়ে অন্তত ৭১৭টি মদের দোকান বন্ধ হতে চলেছে। থলপতি বিজয়ের এই সামাজিক সংস্কারমূলক পদক্ষেপকে রাজ্যবাসীসহ তামিল চলচ্চিত্র জগতের অভিনেতা ও পরিচালকেরা ব্যাপকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।
সামাজিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে তামিলনাড়ুর তরুণ সমাজের মধ্যে মদ্যপানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। স্কুল-কলেজ এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের কাছাকাছি মদের দোকান বন্ধ হওয়ায় সামাজিক পরিবেশ আরও সুরক্ষিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত যুবসমাজকে সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যে অপরাধের হার কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সামাজিক সংস্কারের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ৫৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬০ শতাংশ করা এবং মহিলাদের জন্য মাসিক ১০০০ টাকার ভাতা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার মতো জনকল্যাণমুখী কাজও শুরু করেছেন বিজয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই একের পর এক এই জনস্বার্থমূলক সিদ্ধান্তের কারণে রাজ্য ছাড়িয়ে দেশজুড়েই এখন বিজয় সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।