মেডিক্যাল প্রবেশিকায় ঐতিহাসিক সংস্কার, আগামী বছর থেকে সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক হচ্ছে নিট পরীক্ষা!

জাতীয় স্তরের মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট ইউজি’ (NEET UG) ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্র। আগামী বছর থেকে এই পরীক্ষা পেন-পেন্সিল কাগজের বদলে সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক (CBT) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাম্প্রতিক ঘটনার জেরে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই বড়সড় সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। একই সঙ্গে, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়া চলতি বছরের নিট ইউজি পরীক্ষা আগামী ২১ জুনের মধ্যে পুনরায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে, যার অ্যাডমিট কার্ড মিলবে ১৪ জুনের মধ্যে।

গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া নিট পরীক্ষার পর একটি ‘গেস পেপার’ নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে, যা পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে প্রশ্নপত্র ফাঁস হিসেবে প্রমাণিত হয়। ছাত্রছাত্রীদের মেধা ও ন্যায্য সুযোগের স্বার্থে গত ১২ মে এই পরীক্ষা বাতিলের কঠিন সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে পরীক্ষামূলক কারচুপির যে নতুন কৌশল মাফিয়ারা তৈরি করেছে, তা রুখতে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তদন্তের গুরুদায়িত্ব সিবিআইয়ের কাঁধে ও পরীক্ষার্থীদের স্বস্তি

এই প্রশ্নফাঁস চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তভার দেওয়া হয়েছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনকে (CBI)। কোনো অপরাধী বা মাফিয়া যাতে সাধারণ ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীদের আসন কেড়ে নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এই তদন্তের মূল লক্ষ্য। এদিকে পরীক্ষা বাতিলের কারণে দিশেহারা ২২ লক্ষ শিক্ষার্থীর মানসিক ও আর্থিক চাপের কথা বিবেচনা করে কিছু বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা করেছে মন্ত্রণালয়। পুনরায় পরীক্ষার জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না এবং আগের ফি প্রয়োজনে ফেরতযোগ্য হবে। তীব্র গরম ও আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে যাতায়াতের সুবিধার্থে পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে পরীক্ষার্থীদের পছন্দের শহর বেছে নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।

ভবিষ্যতের প্রভাব ও শূন্য-ভুল ব্যবস্থার লক্ষ্য

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ডিজিটাল বা কম্পিউটারভিত্তিক করার এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রশ্নপত্র মুদ্রণ, পরিবহন এবং সশরীরে তা পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর দীর্ঘ প্রক্রিয়াজনিত নিরাপত্তার ঝুঁকি শতভাগ এড়ানো সম্ভব হবে। রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশের পরেও পরীক্ষা ব্যবস্থায় যে ফাঁকফোকর রয়ে গিয়েছিল, তা এই প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কারের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য এখন একটি ‘শূন্য-ভুল’ (Zero-Error) এবং সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা ভবিষ্যতে এই ধরণের জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *