৫০০ নম্বরের ‘গ্যারান্টি’ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছেন নাসিকের ডাক্তার! নিট প্রশ্ন ফাঁসে এবার উদ্ধার হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাট
জাতীয় স্তরের মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট)-র প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তে নেমে এক চাঞ্চল্যকর চক্রের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। মহারাষ্ট্রের নাসিকের ধৃত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক শুভম খৈরনারের মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাট এই জালিয়াতির এক অন্ধকার দিক উন্মোচন করেছে। উদ্ধার হওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৫০০ থেকে ৬০০ নম্বর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে একটি সুসংগঠিত বড় চক্র কাজ করছে।
প্রশ্ন কেনাবেচা ও নম্বরের প্রলোভন
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে নাসিকের অভিযুক্ত চিকিৎসক শুভম খৈরনারের সঙ্গে পুণের যশ যাদব নামে এক ব্যক্তির যোগাযোগ হয়। শুভম দাবি করেন যে, নিটের একটি প্রশ্নপত্র তাঁর হাতে এসেছে এবং সেটি বিলি করার দায়িত্ব দেওয়া হয় যশকে। গত ২৯ এপ্রিল প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পায়। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর শুভম ও তাঁর সহযোগীরা নিট পরীক্ষার্থীদের টার্গেট করতে শুরু করেন। পরীক্ষার্থীদের নিশ্চিতভাবে ভালো নম্বর পাইয়ে দেওয়া এবং দেশের নামী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো। জানা গেছে, পুণের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকায় প্রশ্ন কিনে তা পরীক্ষার্থীদের কাছে ১৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করতেন শুভম।
প্রভাব এবং তদন্তের অগ্রগতি
এই ঘটনার ফলে দেশজুড়ে নিট পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। লক্ষ লক্ষ যোগ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়ে মেধাকে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করার এই প্রচেষ্টা গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঘটনার পর তদন্তকারীদের এড়াতে অভিযুক্ত চিকিৎসক চুল-দাড়ি কেটে নিজের হুলিয়া সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছিলেন। তবে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁর পুরনো ছবির সঙ্গে বর্তমান চেহারা মিলিয়ে গত মঙ্গলবার তাঁকে আটক করে সিবিআই। বর্তমানে শুভমের সঙ্গে জড়িত অন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এবং ডিজিটাল তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে এই চক্রের মূল হোতাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।