বিশ্ব বাজারে অস্থিরতার জের, দেশে পেট্রলের রফতানি শুল্ক বাড়াল কেন্দ্র কিন্তু স্বস্তি ডিজেলে
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি বাজারে বড়সড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি রফতানির কর কাঠামোতে বড় ধরনের রদবদল করল কেন্দ্র সরকার। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রল রফতানির ওপর শুল্ক বাড়ানো হলেও বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে ডিজেল ও বিমানের জ্বালানিতে (এটিএফ)। অর্থ মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পরিবর্তিত এই নতুন কর কাঠামো আজ, ১৬ মে থেকেই দেশজুড়ে কার্যকর করা হয়েছে।
শুল্ক কাঠামোর রদবদল ও কারণ
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সেন্ট্রাল এক্সাইজ অ্যাক্ট এবং ফিনান্স অ্যাক্টের সংশ্লিষ্ট ধারা মেনে জনস্বার্থে পেট্রল রফতানির ওপর প্রতি লিটারে ৩ টাকা করে অতিরিক্ত এক্সাইজ ডিউটি বা উইন্ডফল ট্যাক্স বসিয়েছে কেন্দ্র। তবে এর বিপরীতে স্বস্তি মিলেছে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির ক্ষেত্রে। ডিজেল রফতানির শুল্ক প্রতি লিটারে ২৩ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬.৫ টাকা এবং এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা এটিএফ-এর শুল্ক প্রতি লিটারে ৩৩ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া পেট্রল ও ডিজেল রফতানির ক্ষেত্রে কোনো রোড ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেস আরোপ করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে। বিশ্ব বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশীয় বাজারে জ্বালানির জোগান ও দামের ভারসাম্য বজায় রাখতেই সরকারের এই পদক্ষেপ।
দেশীয় বাজারে প্রভাব ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা
রফতানি শুল্কের এই পরিবর্তনের সমান্তরালে দেশের খুচরো বাজারেও বড় ধাক্কা খেয়েছে সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি একধাক্কায় পেট্রল ও ডিজেল উভয়ের দামই প্রতি লিটারে ৩ টাকা করে বাড়িয়ে দিয়েছে। এই দাম বাড়ার ফলে রাজধানী দিল্লিতে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি ৯৭.৭৭ টাকা এবং ডিজেলের দাম ৯০.৬৭ টাকা হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে কলকাতা, মুম্বই ও চেন্নাইয়ের মতো দেশের প্রধান মহানগরীগুলিতে পেট্রলের দাম ইতিমধ্যেই ১০০ টাকার গণ্ডি পার করে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের ঊর্ধ্বগতি এবং পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে আগামী দিনে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে, যা আমজনতার পকেটে বাড়তি চাপ তৈরি করবে।