চিন সফর সেরেই কি ইরানে ফের বিধ্বংসী হামলা চালাবেন ট্রাম্প, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা

দুই দিনের ঐতিহাসিক চিন সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফিরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে এক বড়সড় সামরিক অভিযানের নীলনকশা তৈরি করছেন বলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ইরান ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর অবরোধ নিয়ে আলোচনা হলেও, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মনোভাব শান্তি স্থাপনের ইঙ্গিত দিচ্ছে না। গত ৭ এপ্রিল থেকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চললেও, বর্তমান পরিস্থিতি বলছে সেই সমঝোতা এখন খাদের কিনারে। চিনে যাওয়ার আগেই ট্রাম্প ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিলেন, হয় তেহরানকে আমেরিকার শর্ত মেনে চুক্তিতে আসতে হবে, অন্যথায় সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখোমুখি হতে হবে।
অপারেশন এপিক ফিউরি ২.০ এবং হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু
নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন এবার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি ২.০’ নামক একটি অত্যন্ত গোপনীয় ও বিধ্বংসী সামরিক পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছে। মার্কিন কংগ্রেসে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে প্রয়োজনে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে এবং আমেরিকার কাছে হামলার সমস্ত পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহেই ইরানকে লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ শুরু করতে পারে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হতে পারে ইরানের সামরিক পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া। এছাড়া মাটির গভীরে থাকা ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে বিশেষ কমান্ডো বাহিনী মোতায়েন এবং ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান লাইফলাইন ‘খর্গ দ্বীপ’ মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মতো ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের।
যুদ্ধের কারণ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই সম্ভাব্য সংঘাতের প্রধান কারণ হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখার মরিয়া চেষ্টা। আমেরিকা মনে করছে, সামরিক চাপ সৃষ্টি না করলে ইরানকে কোনো চুক্তিতে বাধ্য করা যাবে না। যদি এই যুদ্ধ সত্যিই শুরু হয়, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। হরমুজ প্রণালী ও খর্গ দ্বীপের মতো জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রগুলো অবরুদ্ধ হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দা ডেকে আনবে। এদিকে আমেরিকার এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের জবাবে তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে তারাও যে কোনো পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং মার্কিন বা ইজরায়েলি আগ্রাসনের অত্যন্ত কঠোর ও উপযুক্ত জবাব দিতে তাদের সেনারা রণক্ষেত্রে অপেক্ষা করছে।