কোটি টাকার প্রশ্ন ফাঁসের নেপথ্যে কি জনপ্রিয় ‘এম স্যর’, গ্রেপ্তারির পর উঠছে বড় প্রশ্ন!

দেশজুড়ে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের তদন্তে নেমে আরও এক বড়সড় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। অধ্যাপক এবং লেকচারারের পর এবার সিবিআইয়ের জালে ধরা পড়লেন মহারাষ্ট্রের লাতুরের এক বিখ্যাত কোচিং সেন্টারের মালিক শিবরাজ মোতেগাঁওকর। একটানা সাত ঘণ্টা ম্যারাথন জেরার পর রবিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত এই শিক্ষকের মোবাইল ফোন থেকেই উদ্ধার হয়েছে নিটের মূল প্রশ্নপত্র।

সাইকেল থেকে সাফল্যের চূড়োয় শিবরাজ

মহারাষ্ট্রের শিক্ষামহলে শিবরাজ মোতেগাঁওকর অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় একটি নাম। সামাজিক মাধ্যমে হাজার হাজার অনুগামী পরিবেষ্টিত এই শিক্ষক মূলত ‘এম স্যর’ নামেই সর্বাধিক পরিচিত। লাতুরের এক সাধারণ কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে কঠোর পরিশ্রমে নিজের কেরিয়ার তৈরি করেছিলেন তিনি। শুরুতে সাইকেলে চেপে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিউশনি করতেন। পরবর্তীতে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু হয় কোচিং সেন্টারের যাত্রা, যা আজ ‘আরসিসি ক্লাসেস’ নামে একটি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার পড়ুয়া সর্বভারতীয় এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তাঁর সংস্থায় ভর্তি হন।

মোবাইলে নিটের প্রশ্ন ও প্রমাণ লোপাটের ছক

সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ মে শিবরাজের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর সময় তাঁর মোবাইল ফোন থেকে নিটের প্রশ্নপত্রটি উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, প্রশ্ন ফাঁসের একটি সুসংগঠিত বড় চক্রের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এই কোচিং সেন্টারের মালিক। চক্রটি গত ২৩ এপ্রিল নিটের প্রশ্ন ও উত্তরপত্র নিজেদের কবজায় আনে। এরপর সেই প্রশ্ন হাতলিপি বা হাতে লিখে অন্য সহযোগীদের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হত। পরীক্ষা শেষ হতেই অপরাধের সমস্ত তথ্যপ্রমাণ মুছে ফেলতে সেই প্রশ্নপত্রগুলি নষ্ট করে ফেলা হত বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই পিভি কুলকার্নি নামে এক শিক্ষক এবং মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে নামে এক অধ্যাপিকাকে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

মেধায় বড় ধাক্কা ও কোটি টাকার খেলা

মহারাষ্ট্রের পড়ুয়ারা সর্বভারতীয় স্তরের পরীক্ষাগুলিতে ধারাবাহিকভাবে যে ঈর্ষণীয় ফলাফল করে আসছে, তার নেপথ্যে এই কোচিং সেন্টারের বড় ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এই গ্রেপ্তারি সেই সাফল্যের ওপর এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল। তদন্তকারীদের অনুমান, বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নিটের প্রশ্নপত্র পৌঁছে যেত এই নামী কোচিং সেন্টার এবং শিক্ষকদের হাতে। এরপর সেই প্রশ্ন মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হত পরীক্ষার্থীদের কাছে। এই চক্রের মূল শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং এর ফলে কতজন অযোগ্য পরীক্ষার্থী সুবিধা পেয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা। এই ঘটনা আগামী দিনে সর্বভারতীয় পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও লক্ষ লক্ষ যোগ্য পড়ুয়ার ভবিষ্যৎকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *