মোদি জমানায় প্রথমবার বড় পরাজয়, লোকসভায় মুখ থুবড়ে পড়ল আসন পুনর্বিন্যাস বিল!

নরেন্দ্র মোদি সরকারের টানা এক দশকের শাসনামলে এই প্রথম সংসদীয় ভোটাভুটিতে বড়সড় পরাজয়ের স্বাদ পেল শাসক জোট এনডিএ। ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করার লক্ষ্যে আনা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি লোকসভায় পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। মহিলা সংরক্ষণের দোহাই দিয়ে আনা এই বিলে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় এটি বাতিল হয়ে যায়। এই ঐতিহাসিক ঘটনার পর শাসক শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

বিজেপির ‘ষড়যন্ত্র’ বনাম বিরোধীদের প্রতিরোধ

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর অভিযোগ, মহিলা সংরক্ষণকে সামনে রেখে বিজেপি আসলে উত্তর ভারতের লোকসভা আসন বাড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চেয়েছিল। তিনি সাফ জানান, সরকার যে পদ্ধতিতে আসন পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে তাতে কেবল বিজেপিরই জেতার সম্ভাবনা তৈরি হয়, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। ২০২৯ সালের নির্বাচনকে নজরে রেখে উত্তর ভারতের প্রভাব বাড়ানোর এই কৌশলকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি ২০২৩ সালের মূল বিলটি অবিলম্বে কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো ও রাজনৈতিক প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিলটি পাস হলে দক্ষিণ ও পূর্ব ভারতের তুলনায় উত্তর ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব কয়েক গুণ বেড়ে যেত, যা ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করার আশঙ্কা তৈরি করেছিল। বিরোধীদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ লোকসভায় সরকারকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। অন্যদিকে, এই পরাজয়ের পর বিজেপি কংগ্রেসকে ‘মহিলা-বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে পালটা আক্রমণ শানিয়েছে। এই ঘটনার ফলে ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল ও সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠল।

এক ঝলকে

  • মোদি সরকারের ১০ বছরে প্রথমবার কোনো বিল সংসদীয় ভোটাভুটিতে পরাজিত হলো।
  • ৫৪৩ থেকে আসন বাড়িয়ে ৮১৬ করার লক্ষ্য থাকলেও প্রয়োজনীয় ৩৫২টি ভোট পায়নি এনডিএ।
  • প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর দাবি, মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে বিজেপি উত্তর ভারতের নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়েছিল।
  • বিলটি বাতিল হওয়াকে গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর জয় হিসেবে দেখছে বিরোধী ইন্ডিয়া জোট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *