হাতে কুঠার, লক্ষ্য প্রেমিকার সিঁথি! বিয়ের আসরে হুলুস্থুল কাণ্ড
উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের খোরাবার এলাকায় এক বিয়ের আসরে সিনেমার কায়দায় হাজির হয়ে তাণ্ডব চালালেন প্রাক্তন প্রেমিক। কুড়াল হাতে মণ্ডপে ঢুকে বর ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনেই কনের সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন ওই যুবক। এই অনভিপ্রেত ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে বিয়ের আনন্দ বিষাদে রূপ নেয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, উত্তেজিত গ্রামবাসীদের গণপিটুনিতে গুরুতর জয়াখম ওই যুবককে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হচ্ছে।
মণ্ডপে উন্মত্ত তাণ্ডব ও গণপিটুনি
গত ১২ মে কুসমহি বাজারে দেওরিয়া জেলা থেকে আসা বরযাত্রীদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। রাত ১১টা নাগাদ জয়মালার ঠিক আগমুহূর্তে হাতে কুড়াল নিয়ে মঞ্চে উঠে পড়েন স্থানীয় এক যুবক। ধারালো অস্ত্র দেখে উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়লে সেই সুযোগে সবার সামনেই কনেকে জোরপূর্বক সিঁদুর পরিয়ে দেন তিনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কনেপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা যুবককে ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গোরক্ষপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি করে।
বিয়ের অনিশ্চয়তা ও সমঝোতা
এই ঘটনার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। বরের পরিবার এমন অবস্থায় কনেকে ঘরে তুলতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বিয়ে ভেঙে দেওয়ার উপক্রম হয়। সারা রাত ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও আলোচনার পর অবশেষে বিষয়টি মীমাংসা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বরপক্ষ শান্ত হলে ভোরের দিকে অবশিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে কনে বিদায় দেওয়া হয়।
পুলিশি প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, যুবকটির সাথে কনের পূর্বপরিচয় ছিল এবং সে বিয়েতে বাধা দিতেই এই আত্মঘাতী পদক্ষেপ নেয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
এক ঝলকে
- গোরক্ষপুরের খোরাবার এলাকায় বিয়ের আসরে কুড়াল হাতে প্রেমিকের হামলা ও কনের সিঁথিতে সিঁদুর দান।
- ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে গুরুতর আহত প্রেমিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
- ঘটনার জেরে বরপক্ষ প্রথমে বিয়ে বাতিল করতে চাইলেও পরে সমঝোতার মাধ্যমে কনে বিদায় সম্পন্ন হয়।
- পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে।