সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব নিখিল; শেষ সম্বল পোষ্যকে সঙ্গী করেই না-ফেরার দেশে মালিক
উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে ইজ্জতনগর থানা এলাকা। নিজের পোষ্য কুকুর ‘প্রেমী’কে বিষ খাইয়ে হত্যার পর বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন ৩৩ বছর বয়সী প্রপার্টি ডিলার নিখিল অরোরা। দীর্ঘক্ষণ ঘরের দরজা না খোলায় স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে উদ্ধার হয় এই দুই নিথর দেহ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গভীর বিষাদ এবং অনিশ্চয়তা থেকেই এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওই যুবক।
আর্থিক সংকট ও মানসিক নিঃসঙ্গতা
নিখিল ছিলেন তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। দীর্ঘ সময় ধরে অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন তিনি। নিজের বাড়ি বিক্রি করে তাকে ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছিল এবং দিন দিন ঋণের বোঝা পাহাড়সমান হয়ে উঠছিল। পরিবারে আর কেউ না থাকায় মানসিকভাবে তিনি প্রচণ্ড একা হয়ে পড়েছিলেন। এই একাকীত্ব ও ঋণের চাপই তাকে আত্মহননের পথে ঠেলে দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পোষ্যের প্রতি ভালোবাসা ও চূড়ান্ত পরিণতি
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সালফাসের কৌটা এবং ঘোল বা ছাঁচের প্যাকেট উদ্ধার করেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, নিখিল নিজে বিষ খাওয়ার আগে তার প্রিয় পোষ্য কুকুরটিকেও সেটি খাইয়েছিলেন। স্থানীয়দের মতে, নিখিল তার কুকুরটিকে সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। নিজের মৃত্যুর পর প্রিয় সঙ্গীটির অবহেলা বা অযত্ন হতে পারে, এমন আশঙ্কা ও ভয় থেকেই তিনি কুকুরটিকে সঙ্গে নিয়ে পৃথিবী ছাড়ার পরিকল্পনা করেন।
বর্তমানে পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং বিষক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ঘটনাটি আধুনিক জীবনের বিচ্ছিন্নতা এবং ঋণের জালে পিষ্ট সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
এক ঝলকে
ঘটনাস্থল থেকে সালফাস ও পানীয়র প্যাকেট উদ্ধার করেছে ইজ্জতনগর থানার পুলিশ।
উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে প্রপার্টি ডিলার নিখিল অরোরা ও তার পোষ্য কুকুরের দেহ উদ্ধার।
বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব ও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন নিখিল।
নিজে আত্মহত্যার আগে প্রিয় পোষ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকে তাকেও বিষপ্রয়োগ করেন।