মহিলার দিকে আপত্তিকরভাবে তাকালেই কি যৌন হেনস্থা? বড় রায় হাইকোর্টের!

 

যৌন হেনস্থার মামলা খারিজ করল কর্ণাটক হাইকোর্ট, অভিযোগকারীর বয়ানে অসঙ্গতির নজির

বেঙ্গালুরু: অভিযোগকারী মহিলার বয়ানে অসংগতি থাকায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া যৌন হেনস্থা ও অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের মামলা খারিজ করে দিল কর্ণাটক হাইকোর্ট। বিচারপতি সূরজ গোবিন্দরাজের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।

‘হাফিস কাসিম বনাম কর্ণাটক সরকার’ মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা খারিজের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৫(১)(ii) (যৌন সুবিধা চাওয়া), ৭৫(১)(iv) (যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য), ৩৫১(২) (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) এবং ৩৫২ (শান্তিভঙ্গ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।

মামলার বিবরণে জানা যায়, অভিযোগকারী মহিলা প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিলেন যে, একটি আর্থিক বিবাদ মেটাতে অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে ওই ব্যক্তি তাঁর কাছে যৌন সুবিধার বিনিময়ে টাকা ও সুযোগ-সুবিধার প্রস্তাব দেন। টাকা না দিলে তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাতের হুমকিও দেওয়া হয়। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন পুলিশের কাছে দেওয়া পরবর্তী বয়ানে ওই মহিলা তাঁর প্রাথমিক অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো অস্বীকার করেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত কেবল তাঁর দিকে আপত্তিকরভাবে তাকিয়েছিলেন। যৌন সুবিধা চাওয়া বা শারীরিক আঘাতের হুমকির অভিযোগ তিনি আর সমর্থন করেননি। তবুও পুলিশ চার্জশিটে ৭৫(১)(ii) ও ৩৫১(২) ধারা বহাল রাখে।

এই পরিস্থিতিতে বিচারপতি সূরজ গোবিন্দরাজ পর্যবেক্ষণে বলেন, “অভিযোগকারী মহিলা নিজেই তদন্তের সময় তাঁর প্রাথমিক অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ অস্বীকার করেছেন। অভিযুক্তের দিকে কেবল আপত্তিকরভাবে তাকিয়ে থাকার অভিযোগকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৫(১)(ii) ধারার আওতায় যৌন সুবিধা চাওয়ার দাবি হিসেবে গণ্য করা যায় না।”

আদালত আরও উল্লেখ করে যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যৌন সুবিধা চাওয়া বা ভীতি প্রদর্শনের সপক্ষে তদন্তে অন্য কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও অভিযোগকারীর বয়ানে অসংগতি থাকলেই সব ক্ষেত্রে মামলা খারিজ করা হয় না, তবে এই নির্দিষ্ট মামলায় অভিযোগকারী নিজেই নিজের অবস্থান থেকে সরে আসায় মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই বলে আদালত অভিমত প্রকাশ করে।

অবশেষে, অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি কার্যক্রম খারিজের নির্দেশ দিয়েছে কর্ণাটক হাইকোর্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *