চাপের আবহেই লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায়! অবশেষে টেস্ট অবসর নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন বিরাট কোহলি

ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের চমকে দিয়ে টেস্ট ক্রিকেট থেকে হঠাৎ করেই অবসর নিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। সফলতম টেস্ট অধিনায়ক ও ব্যাটার হওয়া সত্ত্বেও কেন তিনি লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন, তা নিয়ে এতদিন গুঞ্জন কম ছিল না। অনেকেই দাবি করেছিলেন, বোর্ডের কোনো অদৃশ্য চাপ বা অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জেরেই এই সিদ্ধান্ত। অবশেষে যাবতীয় জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নিজের টেস্ট অবসর প্রসঙ্গে মুখ খুললেন ভারতের এই কিংবদন্তি ব্যাটার।
অবসরের নেপথ্যে আসল কারণ
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের (আরসিবি) একটি সাম্প্রতিক পডকাস্টে বিরাট কোহলি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার ও অবসরের নেপথ্য কাহিনী খোলসা করেন। সেখানে সরাসরি চাপিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার না করলেও, পারফর্ম করার মানসিক চাপের একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়েছেন কোহলি। তিনি স্পষ্ট জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে খেলার ফলে তৈরি হওয়া শারীরিক ও মানসিক ধকল আর নিতে পারছিলেন না। ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা অটুট থাকলেও পরিবারের সাথে পর্যাপ্ত সময় কাটানো এবং সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের অত্যন্ত কঠিন ও ক্লান্তিকর সফর শেষ হওয়ার পরেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন তিনি।
বিদায়ের প্রভাব ও সাদা বলের ক্রিকেটে লক্ষ্য
কোহলির মতো একজন আগ্রাসী ও সফল ক্রিকেটারের টেস্ট থেকে সরে যাওয়া ভারতীয় ক্রিকেট মহলে বড়সড় শূন্যতা তৈরি করেছে। ভক্তদের একাংশ তাঁর এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানালেও, ক্রিকেটের কুলীন সংস্করণে ‘কিং কোহলি’র অভাব তীব্রভাবে অনুভব করছেন অনুগামীরা। টেস্টে অধিনায়ক হিসেবে ৬৮ ম্যাচে ৪০টি জয় এবং ব্যাটার হিসেবে ১১৩ টেস্টে ৮ হাজার ৮৪৮ রান করা বিরাটের এই বিদায় ভারতীয় মিডল অর্ডারে এক বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও সাদা বলের ক্রিকেটে নিজের লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছেন ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা। কোহলি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিনি খেলা চালিয়ে যাবেন এবং তাঁর পাখির চোখ এখন ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। চলতি আইপিএল-এও তার প্রমাণ মিলছে, যেখানে একের পর এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে আরসিবি-র ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা হয়ে উঠেছেন তিনি। টেস্টের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নিজেকে সম্পূর্ণ উজাড় করে দেওয়াই এখন বিরাটের মূল লক্ষ্য।