রাজনীতি মুক্ত ময়দান গড়ার লক্ষ্যে যুবভারতীতে এবার অভূতপূর্ব ডার্বি প্রস্তুতি
রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে, যার বড়সড় প্রভাব এবার লক্ষ্য করা যাচ্ছে কলকাতার ফুটবল ময়দানেও। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক ময়দানকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মুক্ত করার বার্তা দিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবারের মেগা ডার্বি ম্যাচকে ঘিরে নজিরবিহীন এবং বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করল রাজ্য ক্রীড়া দফতর।
সমর্থকদের দুর্ভোগ কমাতে বড় পদক্ষেপ
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বড় ম্যাচ শেষে সাধারণ ফুটবল সমর্থকদের বাড়ি ফেরা নিয়ে বরাবরই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় এবং অতিরিক্ত ভাড়া হাঁকার কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শকরা বিপাকে পড়েন। এই চেনা ছবিটা এবার বদলে দিতে তৎপর প্রশাসন। ম্যাচ শেষে দর্শকদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিতে স্পেশাল বাস, মেট্রো এবং ফেরি সার্ভিস চালানোর বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্টেডিয়াম চত্বরে পানীয় জলের দীর্ঘদিনের সমস্যা মেটাতেও উদ্যোগী হয়েছে ক্রীড়া মন্ত্রক। অতীতে পানীয় জলের তীব্র সংকট এবং অস্বাস্থ্যকর জল নিয়ে দুই প্রধানের সমর্থকরা ফেডারেশন সভাপতির কাছে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। এবার সেই অভিযোগের স্থায়ী সমাধানে যুবভারতীর প্রতিটি র্যাম্পে পর্যাপ্ত ও বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
যুবভারতীতে প্রশাসনিক রদবদল ও বাড়তি উন্মাদনা
এই মেগা ডার্বিকে কেন্দ্র করে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক রূপরেখাতেও এসেছে বড় বদল। শনিবার দুপুরেই স্টেডিয়ামের ভিআইপি গেটের বাইরে থেকে বিশ্ব বাংলা লোগো সরিয়ে তার জায়গায় বসানো হয়েছে জাতীয় প্রতীক অশোকস্তম্ভ। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এক নতুন পরিবেশ তৈরির ইঙ্গিত মিলছে। রাজনৈতিক প্রভাবহীন এই নতুন আবহে রবিবারের ডার্বিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন স্বয়ং ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ম্যাচের মোট ৬২ হাজার টিকিট দুই ক্লাবের মধ্যে সমানভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই ইতিবাচক ও সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনা ও স্বস্তি দুই-ই বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।