নুন-জলে পা ভেজালেই কি কমবে স্ট্রোকের ঝুঁকি, জাপানি কৌশলের রহস্য ফাঁস
বিশ্বজুড়ে স্ট্রোক একটি নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত। আগে ধারণা করা হতো এটি কেবল প্রবীণদের রোগ, তবে বর্তমানে ২৫ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যেও এই প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। মস্তিষ্কের রক্তবাহী ধমনীতে রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার ফলে এই প্রাণঘাতী সমস্যার সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহ সমাজমাধ্যমে একটি বিশেষ জাপানি কৌশলের কথা উল্লেখ করেছেন, যা স্ট্রোক প্রতিরোধে সহায়ক বলে তাঁর দাবি।
শ্বেতা শাহের মতে, নিয়মিত ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঈষদুষ্ণ গরম জলে পা ডুবিয়ে রাখলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এই পদ্ধতিতে রক্তনালি প্রসারিত হয় এবং শরীরে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়। পাশাপাশি জলে এপসম নুন ব্যবহার করলে তা মানসিক চাপ কমিয়ে ভালো ঘুমে সাহায্য করে। বিশেষ করে ৫০ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের জন্য তিনি এই পদ্ধতিকে একটি বিজ্ঞানসম্মত ‘গোপন কৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
চিকিৎসকদের ভিন্ন মত ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
পুষ্টিবিদের এই দাবি নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চিকিৎসক পঙ্কজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, গরম জলে পা ভেজানো সাময়িক আরাম ও স্বস্তি দিলেও স্ট্রোক প্রতিরোধের কোনো সরাসরি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। স্ট্রোকের প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস এবং কোলেস্টেরল। তাঁর মতে, এই পদ্ধতিতে শরীরের গভীরের ধমনী বা মস্তিষ্কের রক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা প্রভাবিত হয় না। তাই এটি কখনোই চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে না।
পরোক্ষ প্রভাব ও সতর্কতা
অন্য দিকে চিকিৎসক অমিত সারাফ মনে করেন, এই থেরাপি একেবারে ফেলনা নয়। উষ্ণ জল এবং নুন ব্যবহারের ফলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয় এবং স্ট্রেস হরমোনের উৎপাদন কমে। যেহেতু মানসিক চাপ ও উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম কারণ, তাই পরোক্ষভাবে এই পদ্ধতি কিছুটা কার্যকর হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, শুধুমাত্র ঘরোয়া কৌশলের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনই স্ট্রোক থেকে বাঁচার আসল উপায়। মূলত জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব।