জ্যৈষ্ঠের অমাবস্যায় দুঃখমুক্তির আরাধনা, জেনে নিন ফলহারিণী কালী পুজোর সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট

হিন্দু ধর্মে বিভিন্ন তিথিতে শক্তি ও শক্তিরূপা দেবী কালীর ভিন্ন ভিন্ন রূপের আরাধনা করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে অনুষ্ঠিত ফলহারিণী কালী পুজো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ। পৌরাণিক গুরুত্ব ও আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্যে ঘেরা এই বিশেষ পুজো এবার অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামী ১৬ মে, শনিবার (১ জ্যৈষ্ঠ)। এই পূজার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের কর্মের অশুভ ফল হরণ করে জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসা।

তিথি ও নির্ঘণ্ট

বিশুদ্ধ পঞ্জিকা ও সময়সূচি অনুযায়ী, এবারের অমাবস্যা তিথি শুরু হচ্ছে ১৫ মে, শেষরাত্রি ৪টা ০০ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডে। এই তিথি বজায় থাকবে ১৬ মে, শনিবার রাত ১টা ৪৯ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড পর্যন্ত। শনিবার দিনটি জুড়ে অমাবস্যা তিথি থাকায় এই দিনটিতেই দেশজুড়ে ফলহারিণী কালী পুজোর মহাসংকল্প ও আরাধনা সম্পন্ন হবে।

ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক মাহাত্ম্য

ফলহারিণী কালী পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু প্রাচীন বিশ্বাস ও রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবনের এক অনন্য অধ্যায়। ১২৮০ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ মাসের এই অমাবস্যা তিথিতেই শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরে জগজ্জননীর কল্যাণ কামনায় স্ত্রী সারদা দেবীকে দেবী ষোড়শী রূপে পুজো করেছিলেন। এই বিশেষ ঘটনার স্মরণে আজও রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনগুলোতে এই দিনটি ‘ষোড়শী পুজো’ হিসেবে অত্যন্ত ভক্তিভরে পালন করা হয়।

পুজোর প্রভাব ও তাৎপর্য

সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, দেবী কালিকা মানুষের সমস্ত কর্মফল নিজের মধ্যে ধারণ করেন। এই দিনে নিষ্ঠাভরে আরাধনা করলে মায়ের কৃপায় মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর হয় এবং শারীরিক, মানসিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তির বিকাশ ঘটে। জ্যৈষ্ঠ মাস মানেই আম, জাম, লিচু, কাঁঠালের মতো মরসুমী ফলের সমাহার। ভক্তরা এদিন বিভিন্ন সুস্বাদু ফল দেবীর চরণে উৎসর্গ করেন। আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেবী যেমন ভক্তের ইষ্টফল বা মোক্ষফল প্রদান করেন, ঠিক তেমনি জাগতিক জীবনে এই পুজোর প্রভাবে মানুষের বিদ্যা, কর্ম ও অর্থভাগ্যের উন্নতি ঘটে এবং দাম্পত্য জীবনে সুখ ও শান্তি বজায় থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *