জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যায় শনি জয়ন্তীর মহাযোগে কি কাটবে ৫ রাশির দুর্দিন
জ্যোতিষশাস্ত্রে শনিদেবকে ন্যায়পরায়ণ এবং কর্মফলের দেবতা হিসেবে গণ্য করা হয়। মানুষের কর্ম অনুযায়ী তিনি শুভ ও অশুভ ফল প্রদান করেন। ফলে শনির অবস্থান, রাশি বা নক্ষত্র পরিবর্তন মানবজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। এই বছর ১৬ মে, শনিবার জ্যৈষ্ঠ অমাবস্যার পুণ্য তিথিতে পালিত হচ্ছে শনি জয়ন্তী। এই বিশেষ দিনে শনিদেব মীন রাশিতে অবস্থান করছেন। জ্যোতিষবিদদের মতে, বিশেষ এই গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের কারণে নির্দিষ্ট কিছু রাশির ওপর শনির সাড়ে সাতি ও ঢাইয়ার প্রভাব বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হবে।
বর্তমানে মীন, কুম্ভ এবং মেষ রাশি শনির সাড়ে সাতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সিংহ ও ধনু রাশি রয়েছে শনির ঢাইয়ার প্রভাবে। আগামী ২০২৭ সালে শনি রাশি পরিবর্তন না করা পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রায় আগামী এক বছর এই ৫টি রাশির জাতক-জাতিকাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তবে শনি জয়ন্তীর এই বিশেষ তিথিতে নির্দিষ্ট কিছু শাস্ত্রীয় প্রতিকার মেনে চললে শনির অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাড়ে সাতির কবলে থাকা তিন রাশির পরিস্থিতি ও করণীয়
মেষ রাশির জাতক-জাতিকারা বর্তমানে শনির সাড়ে সাতির প্রথম পর্যায়ে রয়েছেন। এর প্রলে জীবনে চড়াই-উতরাই, আর্থিক ব্যয়ের আধিক্য এবং মানসিক অবসাদ দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার ‘বজরং বাণ’ পাঠ এবং দুস্থদের কালো বস্ত্র ও জুতো দান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, মীন রাশি চলছে সাড়ে সাতির দ্বিতীয় তথা সবচেয়ে কঠিন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে। এর প্রভাবে কাজের গতি মন্থর হওয়া এবং পারিবারিক সম্পর্কে মতবিরোধ দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এই অশুভ প্রভাব কাটাতে শনিবার কালো কুকুরকে সর্ষের তেল মাখানো রুটি খাওয়ানো এবং সর্ষের তেলের পাত্রে নিজের মুখ দেখে তা ছায়া দান করার কথা বলা হয়েছে।
কুম্ভ রাশির জাতকরা রয়েছেন সাড়ে সাতির শেষ পর্বে। ফলে এদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি লক্ষ্য করা গেলেও কিছু আর্থিক ওঠানামা ও মানসিক চাপ বজায় থাকবে। প্রতিকার হিসেবে প্রতি শনিবার শনিদেবকে সর্ষের তেল নিবেদন এবং দরিদ্রদের কালো তিল, বিউলি ডাল বা কালো বস্ত্র দান করা উচিত।
ঢাইয়ার প্রভাবে থাকা সিংহ ও ধনু রাশির সতর্কতা
সিংহ ও ধনু—এই দুই রাশির জাতক-জাতিকারা বর্তমানে শনির ঢাইয়ার প্রভাবে রয়েছেন। সিংহ রাশির ক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিশ্রম এবং কাজ মাঝপথে আটকে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। এই রাশির জাতকদের আর্থিক বিষয়ে বিচক্ষণ হওয়া প্রয়োজন। শুভ ফল পেতে শনিবার অশ্বত্থ গাছের নিচে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালানো এবং দুস্থদের কালো ছোলা ও তিল দান করা কর্তব্য।
একইভাবে শনির ঢাইয়ার কারণে ধনু রাশির জাতকদেরও প্রতিটি কাজে বাধা ও বিলম্বের সম্মুখীন হতে হতে পারে। পরিবারে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে কথাবার্তায় সংযম রাখা আবশ্যক। এই রাশির জাতকরা শনি জয়ন্তীর দিন থেকে প্রতি শনিবার শনিদেবকে কালো তিল ও সর্ষের তেল নিবেদন করলে এবং অভাবীদের বিউলির ডাল বা কালো বস্ত্র দান করলে শনির কুদৃষ্টি থেকে রেহাই পেতে পারেন।