সামান্য ইউরিন ইনফেকশন ডেকে আনছে মারাত্মক বিপদ, অবহেলায় বিকল হতে পারে কিডনি!
ইউরিন ইনফেকশন বা মূত্রনালীর সংক্রমণ (ইউটিআই) বর্তমান সময়ে একটি অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত সঠিক চিকিৎসায় কয়েক দিনের মধ্যে এটি সেরে উঠলেও, এই সমস্যাটিকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। চিকিৎসকদের মতে, শুরুর দিকে একে সাধারণ প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া বা ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া মনে হলেও, সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ না নিলে এটি গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে এই সংক্রমণ মূত্রনালী বেয়ে কিডনি পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে এবং এর জেরে মানুষের কিডনি চিরতরে বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সংক্রমণের মূল কারণ ও উচ্চ ঝুঁকির ক্ষেত্র
এই সংক্রমণ মূলত ‘ই. কোলাই’ (E. coli) নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে। এই ব্যাকটেরিয়া কোনোভাবে মূত্রনালীতে প্রবেশ করলে সেখানে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাব, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল না খাওয়া এবং নোংরা বা পাবলিক টয়লেট ব্যবহারের কারণে ইউরিন ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এ ছাড়া, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলেও এই সংক্রমণ হতে পারে। সাধারণত যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারলেও প্রবীণ ব্যক্তি, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী, গর্ভবতী মহিলা এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির মাত্রা অনেকটাই বেশি।
উপসর্গ এবং কিডনি বিকলের সম্ভাব্য প্রভাব
ইউরিন ইনফেকশন যতক্ষণ পর্যন্ত মূত্রথলির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, ততক্ষণ এটি বড় কোনো বিপদ ঘটায় না। তবে দীর্ঘদিন সংক্রমণ শরীরে পুষে রাখলে এটি কিডনি ড্যামেজ বা স্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাধারণত প্রস্রাব করার সময় তীব্র জ্বালাপোড়া, বারবার প্রস্রাবের বেগ পাওয়া, তলপেটে বা কোমরের নিচের অংশে অবিরাম ব্যথা এবং প্রস্রাব থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়া এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। কিন্তু সংক্রমণ যখন কিডনিতে ছড়ায়, তখন শরীরে প্রচণ্ড জ্বর, কাঁপুনি দিয়ে ঠান্ডা লাগা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া এবং প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত আসার মতো মারাত্মক উপসর্গ দেখা দেয়। এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পাওয়া মাত্রই রোগীকে অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি।
সুরক্ষিত থাকার ও বাঁচার উপায়
এই মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচতে দৈনন্দিন জীবনে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সারাদিনে প্রচুর পরিমাণে জল পান করতে হবে, যা মূত্রনালীর ব্যাকটেরিয়াকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়। দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে, কারণ প্রস্রাব আটকে রাখলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করার সুযোগ পায়। পাশাপাশি সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবহার করা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। সর্বোপরি, সামান্য সমস্যাতেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।