সবুজ দানবের নামে নতুন ডেটিং ট্রেন্ড, নিজের চেয়ে কম আকর্ষণীয় সঙ্গী খুঁজছে জেন জি!
আজকের ডিজিটাল যুগে তরুণ প্রজন্মের ডেটিং সংস্কৃতিতে প্রতিনিয়ত যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন ধারণা। বর্তমান সময়ে ‘জেন জি’ বা নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণীদের মাঝে একটি অদ্ভুত ও কৌতূহল উদ্দীপক ডেটিং প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘শ্রেকিং’। সমাজের তথাকথিত সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে নিজের চেয়ে কম আকর্ষণীয় বা কম যোগ্যতাসম্পন্ন সঙ্গী বেছে নেওয়ার এই নতুন মানসিকতাই এখনকার ট্রেন্ড।
২০০১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র ‘শ্রেক’-এর নাম থেকে এই ট্রেন্ডের নামকরণ করা হয়েছে। রূপকথার সেই সবুজ, স্থূলকায় দানব যেভাবে রাজকন্যা ফিওনাকে ভালোবেসে আগলে রেখেছিল, নতুন প্রজন্মও নিজেদের সম্পর্কে সেই নিশ্চয়তা খুঁজছে। টিকটকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ‘শ্রেকিং’ এবং ‘গেটিং শ্রেকড’ শব্দগুলো এখন তুমুল জনপ্রিয়।
সম্পর্কের ব্যাটন হাতে রাখার মানসিকতা
বিশ্লেষকদের মতে, নিজের চেয়ে বাহ্যিক রূপ বা অন্যান্য দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকা সঙ্গীকে বেছে নেওয়ার পেছনে কাজ করছে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তা খোঁজার চেষ্টা। তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশের ধারণা, সঙ্গী যদি নিজের চেয়ে কিছুটা ‘কম’ হয়, তবে সম্পর্কের নিয়ন্ত্রণ বা ব্যাটন নিজের হাতে থাকবে। কম আকর্ষণীয় সঙ্গী সহজে সম্পর্ক ভেঙে চলে যাবে না— এমন একটি ধারণা থেকেই এই প্রবণতার জন্ম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন ভিডিওতে অনেকে অকপটে স্বীকার করেছেন যে, বিচ্ছেদের ভয় এড়াতে এবং সম্পর্কে নিজের আধিপত্য বজায় রাখতেই তাঁরা এই পথ বেছে নিচ্ছেন।
হৃদয়ভঙ্গের আশঙ্কা ও বিষাক্ত প্রভাব
আপাতদৃষ্টিতে একে সম্পর্কের স্থায়িত্ব বাড়ানোর কৌশল মনে হলেও, সমাজবিজ্ঞানী ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা এই ট্রেন্ডকে অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, এটি আসলে এক ধরনের মানসিক নিরাপত্তাহীনতা থেকে তৈরি হওয়া ফাঁদ। সম্পর্ককে ইতিবাচক ও অনুপ্রেরণাদায়ক করার পরিবর্তে এটি অহেতুক জটিল করে তোলে।
এই ট্রেন্ডের বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সঙ্গীর ওপর। সঙ্গী নিজেকে অবমূল্যায়িত মনে করতে পারেন এবং এর ফলে তাঁর মধ্যে তীব্র হীনমন্যতা ও আত্মসম্মানহানি ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, শুরুতেই একজনকে নিজের চেয়ে ‘নিচু’ স্তরের ভাবলে সেখানে পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকে না। তাছাড়া, কম আকর্ষণীয় সঙ্গী খুঁজলেই যে হৃদয়ভঙ্গ বা প্রতারণার আশঙ্কা এড়ানো যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আধুনিক জীবনের ট্রাস্ট ইস্যু বা মানসিক ট্রমাকে ঢাকতে গিয়ে এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক খেলা সম্পর্কের স্বাভাবিক গতিকে বিষাক্ত করে তুলছে।