রসগোল্লার উৎস নিয়ে আবার শুরু হলো তুমুল বিতর্ক, সেলিব্রিটি শেফের মন্তব্যে তোলপাড় নেটপাড়া
বাঙালির প্রাণের আবেগ রসগোল্লা কার, তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলা বিতর্ক আরও একবার উসকে দিলেন বিখ্যাত সেলিব্রিটি শেফ কুণাল কাপুর। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ভারতীয় খাদ্যাভ্যাস ও ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা করার সময় রসগোল্লার উৎস হিসেবে ওড়িশার নাম উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার ভোজনরসিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে শুরু হয়েছে ‘মিষ্টি যুদ্ধ’।
বিতর্কের সূত্রপাত ও ঐতিহাসিক রেষারেষি
একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানে কুণাল কাপুর মন্তব্য করেন যে, কলকাতার মানুষ রুষ্ট হতে পারেন, তবে রসগোল্লা আসলে ওড়িশার বলেই প্রচলিত রয়েছে। শেফের এই বক্তব্য নিমেষেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। রসগোল্লার অধিকার নিয়ে দুই রাজ্যের এই রেষারেষি অবশ্য দীর্ঘদিনের। ওড়িশার দাবি, জগন্নাথ মন্দিরের বহু শতাব্দীর প্রাচীন রীতির সঙ্গে এই মিষ্টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং পঞ্চদশ শতাব্দীর ওড়িয়া রামায়ণেও এর উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলার পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে, ১৮৬৮ সালে কলকাতার বাগবাজারের ময়রা নবীনচন্দ্র দাসের হাত ধরেই আজকের আধুনিক স্পঞ্জ রসগোল্লার জন্ম হয়েছিল।
আইনি স্বীকৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ভৌগোলিক অধিকারের লড়াই ২০১৭ সালে এক নতুন মোড় নেয়, যখন পশ্চিমবঙ্গ সরকার ‘বাংলার রসগোল্লা’র জন্য জিআই (Geographical Indication) ট্যাগ লাভ করে। তবে আইনি লড়াই সেখানেই থেমে থাকেনি। ২০১৯ সালে ওড়িশাও তাদের নিজস্ব ‘ওড়িশা রসাগোলা’র জন্য পৃথক জিআই ট্যাগ হাসিল করে নেয়। ফলে আইনগতভাবে দুই রাজ্যের রসগোল্লাই তাদের নিজস্ব স্বকীয়তায় স্বীকৃত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাদের দিক থেকে বাংলার রসগোল্লা ধবধবে সাদা ও স্পঞ্জি, আর ওড়িশার রসাগোলা হালকা বাদামী ও নরম। সেলিব্রিটি শেফদের এমন মন্তব্য মাঝেমধ্যেই এই আঞ্চলিক সেন্টিমেন্টকে আঘাত করে বিতর্ক পুনরুজ্জীবিত করলেও, এটি প্রকারান্তরে ভারতের সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতিকেই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরে। ভৌগোলিক উৎসের এই অমীমাংসিত লড়াই মিষ্টির বাণিজ্যিক বাজার এবং দুই রাজ্যের পর্যটন ও খাদ্য ঐতিহ্যকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলছে।