হঠাৎ স্ট্রোক বা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রাণ বাঁচাবে ৬টি জরুরি কৌশল
বিপদ কখনো আগাম বার্তা দিয়ে আসে না। দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে হঠাৎ করেই যে কেউ স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক কিংবা মারাত্মক রক্তক্ষরণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন। চিকিৎসকদের মতে, এমন আপৎকালীন মুহূর্তে রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অন্তর্বর্তী সময়টুকু অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। এই সময়ে সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা বা ফার্স্ট এইড না মিললে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তাই যেকোনো বড় ক্ষতি এড়াতে এবং মানুষের প্রাণ বাঁচাতে প্রত্যেকেরই কিছু জরুরি জীবনদায়ী কৌশল জেনে রাখা প্রয়োজন।
মাথা ঠান্ডা রাখাই প্রথম কাজ
যেকোনো মেডিকেল ইমার্জেন্সিতে যিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন, তাঁর মানসিক স্থিতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে আতঙ্কিত না হয়ে সবার আগে নিজেকে শান্ত রাখতে হবে। উদ্ধারকারী নিজে উত্তেজিত হয়ে পড়লে রোগীকে সঠিক সাহায্য করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
জীবন বাঁচাতে ৬টি জরুরি পদক্ষেপ
জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখলে দ্রুত এই ছয়টি কৌশল অবলম্বন করা উচিত—
১. শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা: অসুস্থ ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক নাকি দ্রুত চলছে, তা সবার আগে খেয়াল করতে হবে। শ্বাসের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করলেই রোগীর শারীরিক অবস্থার জটিলতা আঁচ করা সম্ভব।
২. পালস বা নাড়ির গতি নির্ণয়: বুকের বাঁ দিকে হাতের তালু দিয়ে হৃৎপিণ্ডের গতি বোঝার চেষ্টা করতে হবে। একই সঙ্গে রোগীর নাড়ির গতি বা পালস পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা সঠিকভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।
৩. চেস্ট কমপ্রেশন: রোগীর হৃৎস্পন্দন সচল রাখতে বুকের ওপর দুই হাত একত্র করে চাপ বা ‘চেস্ট কমপ্রেশন’ দেওয়া শুরু করতে হবে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, আপৎকালীন অবস্থায় প্রতি মিনিটে ১০০ থেকে ১২০ বার এই কম্প্রেশন দেওয়া উচিত।
৪. সিপিআর প্রয়োগ: ব্যক্তি যদি শ্বাস নিতে না পারেন এবং নাড়ির গতি স্তব্ধ হয়ে আসে, তবে পরিস্থিতিভেদে মুখে মুখ লাগিয়ে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস বা ‘সিপিআর’ (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এই পদ্ধতি প্রয়োগের জন্য ন্যূনতম সাধারণ প্রশিক্ষণ থাকা আবশ্যক।
৫. রক্তক্ষরণ বন্ধ করা: গুরুতর জখম হয়ে অনবরত রক্তপাত হতে থাকলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে। রক্তে কাপড় ভিজে গেলেও তা খুলে না ফেলে, তার ওপর আরও কাপড়ের পরত দিয়ে চেপে ধরে রাখতে হবে যেন রক্তক্ষরণ কমে আসে।
৬. দ্রুত যোগাযোগ ও স্থানান্তর: প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি কালবিলম্ব না করে নিকটবর্তী হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, নার্সিং হোম বা স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে, যেন দ্রুততম সময়ে রোগীকে পেশাদার চিকিৎসকদের আওতাভুক্ত করা যায়।
যেকোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা বা অসুস্থতায় এই প্রাথমিক কৌশলগুলো রোগীর জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।