৮০ টাকার পথে চিনির দাম, বাড়বে কি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি?
চিনির ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য বাড়ানোর দাবি: দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা সাধারণ বাজারে
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশজুড়ে চিনি শিল্পের সংকট নিরসন এবং উৎপাদন খরচ সামাল দিতে চিনির ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য (MSP) বাড়ানোর জোরালো দাবি উঠেছে। শিল্পমহলের এই দাবি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ বাজারে চিনির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি চা, মিষ্টি ও বিস্কুটের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে প্রতি কুইন্টাল চিনির ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য ৩,১০০ টাকা। অল ইন্ডিয়া সুগার ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, গত সাত বছর ধরে এই দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অথচ বিদ্যুৎ খরচ, শ্রমিকের মজুরি এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে চিনি কলগুলো। সংগঠনের চেয়ারম্যান প্রফুল ভিতলানি এই মূল্য বাড়িয়ে ৪,২০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন, অর্থাৎ প্রতি কেজিতে ন্যূনতম দাম ৩১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪২ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চিনি শিল্পের সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রাক্তন নীতি আয়োগ সদস্য রমেশ চন্দের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্র। সম্প্রতি কমিটি বেঙ্গালুরু ও পুণেতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
এরই মধ্যে আখ চাষিদের স্বার্থে কেন্দ্র সরকার ‘ফেয়ার অ্যান্ড রেমুনেরাটিভ প্রাইজ’ (FRP) বাড়িয়ে প্রতি কুইন্টাল ৩৬৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি চিনি শিল্পের মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইথানল প্রকল্পের ঋণ। সরকারি প্রকল্পের অধীনে ইথানল উৎপাদনের জন্য অনেক চিনি কল বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়েছে। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া ও অসময়ের বৃষ্টিতে আখের গুণমান ও সুক্রোজের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ইথানল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ঋণের কিস্তি মেটানো নিয়ে সংকটে পড়েছেন মিল মালিকরা।
এই পরিস্থিতিতে চিনি কলগুলোর জন্য দুই বছরের ‘মরাটোরিয়াম’ বা ঋণ পরিশোধ স্থগিত রাখার দাবি তুলেছে শিল্প সংস্থা। এছাড়া ইথানল প্রকল্পের ঋণে সুদের ভর্তুকি বিদ্যমান ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার যদি শেষ পর্যন্ত চিনির ন্যূনতম বিক্রয়মূল্য বৃদ্ধির এই দাবি মেনে নেয়, তবে খুচরো বাজারে সরাসরি তার প্রভাব পড়বে। এতে মধ্যবিত্তের হেঁসেলে চিনির পাশাপাশি চিনিজাত অন্যান্য খাদ্যপণ্যের ব্যয়ভারও বাড়বে।