জনগণনায় নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় মরিয়া জঙ্গলমহল, প্রতিটি গ্রামে কমিটি গড়ছে কুড়মি সমাজ!

স্বাধীন ভারতে ১৯৩১ সালের পর প্রথমবার হতে চলা জাতিভিত্তিক জনগণনাকে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে আদিবাসী কুড়মি সমাজ। জঙ্গলমহলের চার জেলা— পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে কুড়মি অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে এখন সাজ সাজ রব। জনগণনার নথিতে যাতে জাতি, ধর্ম ও ভাষার নাম ভুলভাবে লিপিবদ্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি গ্রামে বিশেষ ‘সাওতা দহগি’ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুড়মি নেতৃত্ব। এই কমিটির মূল লক্ষ্য হলো গণনাকারী আধিকারিকদের সহায়তা করা এবং সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য প্রদানে সচেতন করা।

ভুল রুখতে বানানে বিশেষ নজর

কুড়মি আন্দোলনের নেতৃত্বের মতে, গত কয়েক দশকের বঞ্চনার পেছনে নথিপত্রের ভুল একটি বড় কারণ। তাই এবার গ্রাম স্তরের বৈঠকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে জাতি বা ধর্মের ঘরে ঠিক কী লিখতে হবে এবং তার বানান কী হবে। আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো জানিয়েছেন, তথ্যের অভিন্নতা বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ। জঙ্গলমহলের প্রায় ৪ হাজার গ্রাম, যার মধ্যে শুধু পুরুলিয়াতেই রয়েছে ১,৪০০টি গ্রাম, সেখানে এই সচেতনতা অভিযান চালানো হচ্ছে। মূলত কুড়মি জনজাতির সঠিক সংখ্যাতত্ত্ব তুলে ধরাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

প্রভাব ও আন্দোলনের ভবিষ্যৎ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই জনগণনা কুড়মিদের দীর্ঘদিনের আদিবাসী তকমা পাওয়ার দাবিকে এক নতুন মাত্রা দিতে পারে। যদি সরকারি নথিতে কুড়মি জনজাতির একটি সুসংহত ও সঠিক পরিসংখ্যান উঠে আসে, তবে তা তাদের জাতিসত্তা আন্দোলনের পালে বাড়তি হাওয়া দেবে। অন্যদিকে, প্রশাসনিক স্তরে জনগণনার প্রস্তুতি শুরু হলেও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করাটা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কুড়মিদের এই স্বেচ্ছাসেবী কমিটিগুলো সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সঠিক পরিসংখ্যান যেমন সামাজিক অধিকার আদায়ে সহায়ক হবে, তেমনি ভুল তথ্য এই জনজাতির ভবিষ্যৎ আন্দোলনকে সংকটে ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *