নবান্নে শুভেন্দু অধিকারীর কড়া দাওয়াই, বড় বদলের ইঙ্গিত
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নবান্নে প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকে একাধিক কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় স্বচ্ছতা ফেরানো এবং দুর্নীতি নির্মূল করতে তিনি যে আপসহীন অবস্থানে থাকছেন, তা প্রথম দিনেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন। বিশেষ করে পূর্বতন সরকারের আটকে রাখা ফাইল এবং সিবিআই তদন্তের গতি বাড়ানো নিয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
দুর্নীতি দমনে বড় পদক্ষেপ
বৈঠকের শুরুতেই শুভেন্দু অধিকারী জানান, সিবিআই-এর চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার প্রসিকিউশনের অনুমতি দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের সরকার যে অনীহা দেখিয়েছিল, তা কাটিয়ে এবার তিনটি দফতরের অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থাকে আইনি ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এর প্রভাব দৃশ্যমান হবে।
কৃষকদের স্বস্তি ও সীমান্ত নীতি
রাজ্যের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় মুখ্যমন্ত্রী একটি বড় ঘোষণা করেছেন। কৃষিপণ্য ও প্রাণীজ পণ্য ভিন রাজ্যে পাঠানোর ক্ষেত্রে সমস্ত প্রশাসনিক জটিলতা ও বাধা দূর করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আন্তঃরাজ্য সীমান্তে কৃষকদের যাতে কোনও ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনাই নতুন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে অভিযান
তিলজলার সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে তিনি জানান, ওই কারখানার কোনও বৈধ বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতিমধেই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শহরের সমস্ত অবৈধ কলকারখানার বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য সিএসসি এবং কলকাতা পুরসভাকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। জননিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের বেআইনি পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে সরকার যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে, তা এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রমাণিত হল।