বিদেশে ভ্রমণে টান, একগুচ্ছ আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল করল এয়ার ইন্ডিয়া

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে কি এবার বিদেশের বদলে দেশের পর্যটনেই জোর দিচ্ছে আমজনতা? সাম্প্রতিক পরিস্থিতির বিচারে এমন প্রশ্নই জোরালো হচ্ছে। গরমের ছুটির মরশুমে যখন ভারতীয়দের মধ্যে বিদেশ ভ্রমণের ধুম থাকে, ঠিক তখনই শিকাগো, নিউ ইয়র্কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটে উড়ান পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। আগামী অগাস্ট মাস পর্যন্ত অন্তত ৭টি আন্তর্জাতিক পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হচ্ছে এবং ২২টি রুটে বিমানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

পরিষেবা হ্রাসের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

এয়ার ইন্ডিয়ার এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে মূলত দুটি প্রধান কারণ উঠে আসছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আকাশসীমা ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি ও আকাশপথ সংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এই কৃচ্ছ্রসাধন। তবে এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বার্তার প্রভাব দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে অন্তত এক বছরের জন্য বিদেশযাত্রা এড়িয়ে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ভ্রমণের পরামর্শ দেন, যাতে বিদেশি মুদ্রার সাশ্রয় করা সম্ভব হয়।

পর্যটন ও অর্থনীতিতে প্রভাব

সিঙ্গাপুর, ব্যাঙ্কক, ঢাকা, কাঠমাণ্ডু এবং কলম্বোর মতো জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর বিমান পরিষেবা সংকুচিত হওয়ায় বিপাকে পড়তে পারেন কয়েক লক্ষ পর্যটক। এর ফলে বিমান ভাড়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক উড়ান কমিয়ে আনায় অভ্যন্তরীণ পর্যটন ক্ষেত্র লাভবান হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে এবং দেশীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সরকারের এই কৌশলগত অবস্থান বিমান পরিবহন ক্ষেত্রে এক নতুন মোড় নিয়ে এল। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটির ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *