প্রধানমন্ত্রীর আর্জিতে হিতে বিপরীত, দেশজুড়ে সোনা কেনার মহাধুম

দেশের অর্থনীতি সুসংহত করতে এবং বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার স্থিতিশীল রাখতে দেশবাসীকে আগামী এক বছর সোনা না কেনার বিশেষ আর্জি জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাব যাতে ভারতীয় অর্থনীতিতে না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই ছিল এই আহ্বান। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার পর বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। সরকারি বিধিনিষেধের আশঙ্কায় দেশজুড়ে গয়নার দোকানগুলিতে এখন উপচে পড়া ভিড়।

আশঙ্কা ও আতঙ্কে তড়িঘড়ি কেনাকাটা

সাধারণ মানুষের মনে প্রবল আতঙ্ক দানা বেঁধেছে যে, সামনেই বিয়ের মরসুম শুরু হওয়ার আগে সরকার সোনা কেনার ওপর কঠোর কোনো নিয়ন্ত্রণ জারি করতে পারে। বিশেষ করে জুন থেকে অগাস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিয়ের লগ্ন থাকায় গ্রাহকরা আর ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। আমদানি শুল্ক আরও বৃদ্ধি, জিএসটি হারের পরিবর্তন কিংবা সোনা মজুত রাখার ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের ভয়ে অনেকেই আগেভাগে গয়না কিনে রাখছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, নভেম্বর-ডিসেম্বরের বিয়ের কেনাকাটাও অনেকে এখনই সেরে ফেলছেন।

বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রভাব

অল ইন্ডিয়া জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে বিয়ের গয়না বিক্রির হার স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বড় গয়না সংস্থাগুলির প্রতিটি শোরুমে দৈনিক গড় বিক্রি ২৫ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে, যেখানে মাঝারি দোকানগুলিতেও প্রতিদিন ১৫ থেকে ১৮ লক্ষ টাকার সোনা লেনদেন হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার সোনা ও রুপোর ওপর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করায় বাজারে দামের পারদ ঊর্ধ্বমুখী। এই অস্বাভাবিক কেনাকাটার হিড়িক রুখতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জুয়েলারি কাউন্সিল প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে আলোচনার সময় চেয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *