সোনার বাজারে চিনের দাপট, ১৮ মাস ধরে টানা সোনা কিনছে বেজিং
বিশ্বের সোনার বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে উঠেছে চিন। গত এপ্রিল মাসেই চিনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৮ টন সোনা সংগ্রহ করেছে, যা আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ড্রাগনের দেশ টানা ১৮ মাস ধরে এই হলুদ ধাতু কেনার ধারা অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে চিনের মোট সরকারি স্বর্ণ মজুত দাঁড়িয়েছে ৭২.৮ মিলিয়ন ট্রয় আউন্সে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৩৪২.৭৬ বিলিয়ন ডলার।
ডলার নির্ভরতা কমানোর কৌশল
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন এই বিপুল পরিমাণ সোনা কিনছে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে। মূলত বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের একাধিপত্য বা দাপট কমাতেই বেজিং তাদের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার দিয়ে সোনা সংগ্রহ করছে। আমেরিকা ও চিনের মধ্যে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার আবহে নিজেদের অর্থনীতিকে নিরাপদ রাখতে সোনাকেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সম্পদ হিসেবে বেছে নিয়েছে তারা। চিনের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, যেকোনো বড় আর্থিক সংকটে সোনা একটি দুর্ভেদ্য ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
ইউয়ানকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য
চিনের এই পদক্ষেপের পেছনে কেবল আত্মরক্ষা নয়, বরং আক্রমণাত্মক বাণিজ্যিক নীতিও কাজ করছে। নিজেদের জাতীয় মুদ্রা ‘ইউয়ান’কে বিশ্ব বাণিজ্যে ডলারের সমকক্ষ বা বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বেজিং। স্বর্ণ মজুত পর্যাপ্ত থাকলে আন্তর্জাতিক মহলে ইউয়ানের গ্রহণযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। যদিও সোনার দামে বর্তমানে যথেষ্ট অস্থিরতা বিরাজ করছে, তবুও স্বল্পমেয়াদী লাভের চিন্তা না করে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সুরক্ষার পথেই হাঁটছে চিন। ড্রাগনের দেশের এই সোনা কেনার হিড়িক বিশ্ববাজারে সোনার দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।