উত্তরে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, দক্ষিণে অসহ্য গরমে নাজেহাল জনজীবন

রাজ্যের আবহাওয়ায় এখন দুই বিপরীতমুখী চিত্র ফুটে উঠছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশের ফলে রাজ্যে ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটির সরাসরি প্রভাব এই মুহূর্তে রাজ্যে পড়বে না বলে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতির জেরে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে স্বস্তির বৃষ্টি নামলেও দক্ষিণবঙ্গে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে।

উত্তরের পাঁচ জেলায় সতর্কতা

উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলায় আজ থেকে বৃষ্টির দাপট বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ১৪ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত এই পাঁচ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করে জানানো হয়েছে যে, বর্ষণের পরিমাণ ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী রবিবার পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বজায় থাকলেও সোমবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে।

দক্ষিণে ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি

অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। বরং বাতাসে অত্যধিক জলীয় বাষ্পের উপস্থিতির কারণে ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে। বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে সামান্য ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও কলকাতা-সহ বাকি জেলাগুলির আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে। কলকাতায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকতে পারে। আর্দ্রতার পরিমাণ প্রায় ৮৯ শতাংশে পৌঁছানোয় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু জায়গায় হালকা বৃষ্টি হলেও তা গরম কমাতে বিশেষ সহায়ক হবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *