চোর স্লোগান! নিজের কৃতকর্মের ফল ভুগছে তৃণমূল, তীব্র আক্রমণ শমীকের
কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান ও নজিরবিহীন বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় শাসক দল তৃণমূল যখন নিরাপত্তার অভাব এবং পরিকল্পিত চক্রান্তের অভিযোগ তুলছে, ঠিক তখনই পালটা তোপ দেগেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, বর্তমানে বাংলায় প্রকৃত ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই মানুষ এভাবে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার সাহস পাচ্ছে।
বিজেপির সংস্কৃতি বনাম জনগণের ক্ষোভ
আদালত চত্বরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান যে, কোনো মহিলা বা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা বিজেপির রাজনৈতিক সংস্কৃতি নয়। তবে একইসঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, আইনজীবীদের একাংশের এই বিক্ষোভ আসলে তৃণমূল সরকারের দীর্ঘদিনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের বহিঃপ্রকাশ। তাঁর মতে, অতীতে তৃণমূল কংগ্রেস যে ধরনের রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করেছিল, আজ তারা ঠিক সেই অভিজ্ঞতারই মুখোমুখি হচ্ছে।
পুরনো স্মৃতি ও বিচারব্যবস্থার প্রতি প্রশ্ন
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের সূচনা করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন, তখন শমীক ভট্টাচার্য প্রশ্ন তুলেছেন যে, ভোটের পর যখন বিজেপি কর্মীরা আক্রান্ত হচ্ছিলেন বা মহিলারা নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন, তখন কেন একই ধরনের তৎপরতা দেখা যায়নি। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় রাজ্যে শুধুমাত্র শাসকের আইন চলত, যা আজ পরিবর্তিত হয়েছে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব
আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত জনস্বার্থ মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনার সূত্রপাত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালত চত্বরের এই ঘটনা রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে আরও তীব্র করবে। শমীক ভট্টাচার্যের এই কড়া মন্তব্য আগামী দিনে বিচারব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের গতিপ্রকৃতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।