উচ্চমাধ্যমিকে আশানুরূপ নম্বর নেই, ফের পরীক্ষায় বসার অভাবনীয় সুযোগ দিচ্ছে সংসদ

প্রকাশিত হলো ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল। এ বছর পাসের হার ৯১.২৩ শতাংশ ছুঁলেও অনেক পরীক্ষার্থীই প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম করতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। এখন থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও কোনো পরীক্ষার্থী চাইলে পুনরায় পরীক্ষায় বসে নিজের নম্বর বাড়িয়ে নেওয়ার বা ‘ইমপ্রুভমেন্ট’ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

নম্বর বৃদ্ধির বিশেষ প্রক্রিয়া

সংসদ সভাপতি পার্থ কর্মকার জানিয়েছেন, নতুন সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা হওয়ার পর যদি কোনো পড়ুয়া মনে করেন তাঁর প্রাপ্ত নম্বর যোগ্যতার তুলনায় কম, তবে তিনি পুনরায় দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় বসতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে তাঁর বর্তমান বছরের মার্কশিটটি সংসদের কাছে সমর্পণ বা সারেন্ডার করতে হবে। পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে পরীক্ষা দিয়ে তিনি নিজের রেজাল্ট উন্নত করার সুযোগ পাবেন। মূলত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে নম্বর যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেই কথা মাথায় রেখেই এই পথে হেঁটেছে সংসদ।

ফলাফলের পরিসংখ্যান ও বিকল্প পথ

এবারের উচ্চমাধ্যমিকে ৭.১০ লক্ষ পরীক্ষার্থীর মধ্যে মেয়েদের পাসের হার ৯২.৪৭ শতাংশ, যা ছেলেদের তুলনায় বেশি। ৯০ শতাংশের উপরে নম্বর বা ‘এ প্লাস-প্লাস’ গ্রেড পেয়েছেন ৬ হাজার ১৩৪ জন। তবে যারা এক বছর নষ্ট না করে দ্রুত নম্বর যাচাই করতে চান, তাঁদের জন্য পিপিএস (স্ক্রুটিনি) ও পিপিআর (রিভিউ)-এর সুযোগও রাখা হয়েছে। আগামী ১৭ মে পর্যন্ত তৎকাল পদ্ধতিতে এবং ২৮ মে পর্যন্ত সাধারণ পদ্ধতিতে রিভিউয়ের আবেদন করা যাবে। সংসদের এই দ্বিমুখী ব্যবস্থা পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *