ইডির জালে কলকাতা পুলিশের ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, সাড়ে ১০ ঘণ্টা জেরার পর গ্রেপ্তার

কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ মহলে বড়সড় ধাক্কা দিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে গ্রেপ্তার হলেন ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। সোনা পাপ্পু সংক্রান্ত একটি বড়সড় প্রতারণা মামলায় দীর্ঘ সাড়ে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডি সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন তিনি। তদন্তে এই ধারাবাহিক অসহযোগিতার কারণেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও রহস্যময় ডায়েরি

তদন্তকারীদের দাবি, এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ব্যবসায়ী জয় কামদারের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ডায়েরি ও মোবাইল চ্যাট শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছে। সেখানে ‘শান্তনুদা’ ও ‘শান্তনু স্যার’ নামের বিশেষ এক ব্যক্তিকে দামী উপহার ও ফাইল পাঠানোর একাধিক উল্লেখ পাওয়া গেছে। যদিও জেরার মুখে ওই ব্যক্তি নিজে নন বলে দাবি করেছিলেন ডিসিপি শান্তনু, তবে ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ ও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার সূত্র ধরে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন যে এই সংকেতগুলো তাঁর দিকেই নির্দেশ করছে।

আর্থিক লেনদেন ও প্রভাবের অভিযোগ

শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিধি কেবল ডায়েরির পাতায় সীমাবদ্ধ নয়। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, তাঁর দুই ছেলের সঙ্গে অভিযুক্ত জয় কামদারের নির্মাণ সংস্থার ঘনিষ্ঠ আর্থিক যোগসূত্র রয়েছে। একটি অ্যাকাউন্টে প্রায় ২১ লাখ ৪০ হাজার টাকার লেনদেনের পাশাপাশি বিতর্কিত জমিতে ফ্ল্যাট কেনা এবং বেআইনিভাবে বাড়ি তৈরির অভিযোগও উঠেছে। ইডির দাবি, জমি ও বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগে এই পুলিশকর্তার সরাসরি মদত ছিল। এই বিপুল পরিমাণ বেআইনি অর্থের উৎস ও প্রভাবশালী যোগসূত্র খতিয়ে দেখতেই এখন শান্তনুকে বিশদ জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে ইডি। এই গ্রেপ্তারির ফলে প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *