গুজরাটের হোটেলে কাজ করে উচ্চ মাধ্যমিকে নবম, পাহাড়প্রমাণ অভাবকে হারাল কালনার সাগর

অভাবের কাছে হার না মানার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল কালনা মহারাজা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সাগর মণ্ডল। ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় ৪৮৮ নম্বর পেয়ে যুগ্মভাবে নবম স্থান অধিকার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে এই কিশোর। তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক অতি সাধারণ ছেলের পাহাড়প্রমাণ লড়াইয়ের গল্প। পরিবারের আর্থিক অনটন মেটাতে এবং নিজের ভবিষ্যতের পড়াশোনার খরচ জোগাতে পরীক্ষার আগেই ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হয়েছিল তাকে। বর্তমানে সে গুজরাটের একটি হোটেলে ‘বয়’ হিসেবে কর্মরত।

বাসন মাজা থেকে মেধা তালিকায় উত্তরণ

নদিয়া জেলার শান্তিপুর থানার নৃসিংহপুরের বাসিন্দা সাগর মাধ্যমিকের পর থেকেই চরম সংকটের মুখোমুখি হয়। বড় দুই বোনের বিয়ে দিতে গিয়ে তার পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। অভাবের তাড়নায় মা-বাবা দুজনেই গুজরাটে শ্রমিকের কাজ করতে চলে যান। একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে গ্রামের বাড়িতে একাই থাকত সাগর। নিজের রান্নাবান্না ও ঘরের কাজ সামলে চালিয়েছে পড়াশোনা। তবে উচ্চশিক্ষার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকায় সেও শেষ পর্যন্ত গুজরাটে পাড়ি দেয়। সেখানে হোটেলের টেবিল পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে বাসন মাজা বা ঘর ঝাড়ু দেওয়ার মতো কাজ করেই সে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল।

আইএএস হওয়ার লক্ষ্য ও আগামীর প্রভাব

সাগরের এই সাফল্য কেবল কালনা বা নদিয়া জেলার নয়, বরং রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে একজন আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখে সাগর। অভাবের কারণে যেখানে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার উপক্রম হয়েছিল, সেখানে ৪৮৮ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় নাম তোলা একটি দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলন মান্ডির মতে, সাগরের এই ফলাফল প্রমাণ করে যে ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রতিকূলতা কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। খুব শীঘ্রই রেজাল্ট নিতে গুজরাট থেকে সপরিবারে গ্রামে ফেরার কথা রয়েছে এই কৃতি ছাত্রের। সাগরের এই জয়যাত্রা আগামী দিনে প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের লড়াই করার বাড়তি সাহস জোগাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *