ভোট লুটের সত্য সামনে আসবেই, কালীঘাটের বৈঠকে বিজেপি ও কমিশনকে তীব্র আক্রমণ মমতা-অভিষেকের
রাজ্যে লোকসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর সংসদীয় রণকৌশল নির্ধারণে কালীঘাটে জরুরি বৈঠকে বসেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের উপস্থিতিতে এই বৈঠকে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তৃণমূল নেত্রী বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সুপার এমার্জেন্সি’ বা চরম জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে ২০২৯ সালে বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত বলে দাবি করেন।
ভোটের হিসেবে গরমিল ও ইভিএম কারচুপি
বৈঠকে তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, তৃণমূলকে কেবল একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং কেন্দ্রের সামগ্রিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অভিষেক অভিযোগ করেন, গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এজেন্টদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছেন এবং প্রার্থীদের পরিচয়পত্র কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়া ১৭-সি ফর্মের হিসেবের সঙ্গে ইভিএমের তথ্যে ব্যাপক গরমিল রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিশেষত, ইভিএম-এর ব্যাটারি ৯০ শতাংশের বেশি চার্জড থাকা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে ভোট লুটের ইঙ্গিত দেন।
আইনজীবী ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
শ্রীরামপুর কেন্দ্রে জয়ী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিজেপি একশো জন আইনজীবী নিয়ে ভোট গণনার ময়দানে নেমেছিল। এমনকি গণনাকেন্দ্রের ভেতরে স্লোগান দেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনাও ঘটেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, বিজেপির লোকজন কেন্দ্রীয় বাহিনীর পোশাক পরে বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়েছে। ভবানীপুরেও প্রশাসনিক প্রতিনিধিদের কাজে বাধা দেওয়া এবং মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
কালীঘাটের এই বৈঠক থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা হলেও তৃণমূল কংগ্রেস তাদের লড়াই থেকে পিছু হটবে না। বিরোধী শিবিরের মনোবল ভাঙার চেষ্টার বিরুদ্ধে দলীয় কর্মীদের অনড় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। এই রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।