কাকলিকে টেক্কা দিয়ে ফের চিফ হুইপ কল্যাণ, মমতার আস্থায় বড় চমক

সংসদীয় রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক বা ‘চিফ হুইপ’ পদে ফিরে এলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ ৯ মাস আগে যে পদ তিনি হারিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার কালীঘাটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তা পুনরায় ফিরে পেলেন এই প্রবীণ আইনজীবী-সাংসদ। বিধানসভা ভিত্তিক ফলের নিরিখে শ্রীরামপুর ও বারাসত দুই কেন্দ্রেই তৃণমূল ৫-২ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে বাজিমাত করলেন কল্যাণই। ফলে সংসদীয় দলের সমীকরণে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে গেলেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আইনি লড়াইয়ের পুরস্কার ও বিশ্বস্ততা

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন আইনি ও রাজনৈতিক সংকটে কল্যাণের লড়াকু ভূমিকা নেত্রীর বিশেষ নজর কেড়েছে। নির্বাচনী ফলের চেয়েও নেত্রীর কাছে তাঁর এই ‘সৈনিক’ সুলভ মনোভাব বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া দুই সাংসদের পরিবারের সদস্যদের ভূমিকাও এই রদবদলে প্রভাব ফেলেছে। উত্তরপাড়া থেকে পরাজিত হয়েও কল্যাণের পুত্র শীর্ষণ্য দলের হয়ে নিরলস আইনি পরিষেবা দিয়েছেন। অন্যদিকে, কাকলি-পুত্র বৈদ্যনাথের সামাজিক মাধ্যমে করা ধারাবাহিক নেতিবাচক মন্তব্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলেছে, যা পরোক্ষভাবে কল্যাণের ফেরার পথ প্রশস্ত করেছে।

সাংসদদের প্রতি কড়া নির্দেশ ও বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ

এ দিনের বৈঠকে সাংসদদের কড়া ভাষায় জনসংযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ না রাখলে যে রেহাই পাওয়া যাবে না, তা তিনি স্পষ্ট করে দেন। অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দাবি করেন যে, রাজ্যে বিজেপির লোকজন সিআরপিএফ-এর পোশাক পরে তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এই অরাজক পরিস্থিতির কথা জাতীয় স্তরে নিয়ে যেতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতিও শুরু করেছে তৃণমূল। সব মিলিয়ে কল্যাণের প্রত্যাবর্তন এবং সাংগঠনিক কড়াকড়ির মাধ্যমে দল নতুন করে ঘুঁটি সাজাতে চাইছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *