তিলজলায় বুলডোজার বিতর্ক, ক্ষমতার দম্ভ ও অমানবিকতার অভিযোগে সরব নওশাদ
তিলজলায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র পরিস্থিতির পর এবার সেই বিতর্কে যোগ হলো নতুন রাজনৈতিক মাত্রা। বুধবার শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে তিলজলা থানার সামনে চলা পুলিশের ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। বৃহস্পতিবার বিকেলে সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি এবং প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ‘বেআইনি’ ও ‘অমানবিক’ বলে তোপ দাগেন।
আইনের আড়ালে দম্ভের লড়াই
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে নওশাদ সিদ্দিকি অভিযোগ করেন, বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নাম করে খোদ প্রশাসনই বেআইনি পথে হাঁটছে। তাঁর দাবি, কোনও নির্মাণ অবৈধ হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে আচমকা ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়। বিধায়কের মতে, বাসিন্দারা তাঁদের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে চ্যালেঞ্জ করতে চাইলেও প্রশাসন তা কর্ণপাত না করে কেবল ‘ক্ষমতার দম্ভ’ প্রদর্শন করছে। নির্দিষ্ট সময় না দিয়ে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালানোয় মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
রাজনৈতিক উত্তাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
তিলজলার এই বুলডোজার অভিযানকে কেন্দ্র করে বর্তমানে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ তুঙ্গে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী ও শুভেন্দু অধিকারীর কড়া অবস্থানের পর পুলিশি তৎপরতা বেড়েছে, অন্যদিকে নওশাদ সিদ্দিকির উপস্থিতি স্থানীয়দের মধ্যে প্রতিবাদের নতুন ভাষা জুগিয়েছে। বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে এই অভিযান চললেও, বিরোধী নেতৃত্বের সরব উপস্থিতি প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, ঘর ভাঙার এই প্রক্রিয়ায় আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে, যা আগামী দিনে প্রশাসনের উচ্ছেদ নীতির স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।