তিলজলা থেকে গড়িয়া, শহরজুড়ে প্রশাসনের বুলডোজার অ্যাকশন, গুঁড়িয়ে গেল গড়িয়ার ক্লক টাওয়ার
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবার শহর কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’। তিলজলার পর বৃহস্পতিবার গড়িয়ার মিতালি সংঘের মাঠ সংলগ্ন একটি ক্লক টাওয়ার গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন। পুরসভার কর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল ঘেরাটোপে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
অবৈধ নির্মাণে কঠোর প্রশাসন
তিলজলার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বহুতলের অবৈধ অংশ ভাঙার মাধ্যমে যে অভিযানের সূচনা হয়েছিল, তার রেশ এবার পৌঁছাল গড়িয়াতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল এই ক্লক টাওয়ারটির বৈধতা নিয়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিন উচ্ছেদ চলাকালীন এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। অভিযানে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেলেও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ।
আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক উত্তাপ
রাজ্যজুড়ে এই বুলডোজার অভিযানের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে আইনজীবীর পোশাকে উপস্থিত হয়ে তিনি রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সওয়াল করেন। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে তিনি দাবি করেন, বাংলাকে উত্তরপ্রদেশের আদলে চালানো হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষা বিঘ্নিত হচ্ছে। পাল্টা জবাবে সরকার পক্ষ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নিয়মভঙ্গকারী কোনো নির্মাণকেই রেয়াত করা হবে না।
এই অভিযানের ফলে একদিকে যেমন অবৈধ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত মহলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনি শাসনের প্রত্যাশা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসনের এই অনমনীয় মনোভাব আগামী দিনে কলকাতার অন্যান্য বিতর্কিত নির্মাণগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।